রবিউল ইসলাম রবি,, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের চিলগাছা গ্রামে মাইকে আজান দেওয়া ও লাউডস্পিকার ব্যবহার করে নামাজ পড়ানোকে ‘শিরক’ ও হারাম দাবি করা নিয়ে ওলামায়ে কেরাম ও আলতাফিয়া দরবার শরীফের মধ্যে বাহাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় চিলগাছা গ্রামে এ বাহাস অনুষ্ঠিত হয়।বাহাসে আলতাফিয়া দরবার শরীফের পক্ষ থেকে মাইকে আজান দেওয়া এবং লাউডস্পিকারে নামাজ পড়ানোকে হারাম ও ‘শিরকে আকবার’ বলা হয়। এর বিপরীতে ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে শরিয়াহ, ফিকহ, আকিদা ও যুক্তির আলোকে ওই বক্তব্যের জবাব দেওয়া হয়।ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘শিরক’ হলো আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি কিংবা ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করা। মাইক বা লাউডস্পিকার মানুষের তৈরি একটি প্রযুক্তিগত মাধ্যম। এর মাধ্যমে ইমামের কণ্ঠস্বর মুসল্লিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। মাইককে কোনো উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস বা তার ইবাদত করা হয় না। তাই মাইক ব্যবহারকে শিরকের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুযোগ নেই।তারা আরও বলেন, ইসলামের ইতিহাসে ইমামের তাকবির পেছনের মুসল্লিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘মুকাব্বির’ রাখার প্রচলন ছিল। আধুনিক সময়ে মাইক সেই কাজটি প্রযুক্তির মাধ্যমে করছে। ফলে মাইক ব্যবহারকে আকিদাগত শিরকের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।বাহাসে আরও বলা হয়, কোনো বিষয়ে ফিকহি মতভেদ থাকলে সেটি ফিকহের বিষয়। কোনো আমলকে জায়েজ, মাকরুহ বা নামাজের শুদ্ধতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং সেটিকে সরাসরি ‘শিরক’ বা ‘কুফরি’ বলা এক বিষয় নয়। ধর্মীয় বিষয়ে মতভেদ থাকলেও দলিল ও জ্ঞানের ভিত্তিতে তা পর্যালোচনা করা উচিত।বাহাসের পর আলতাফিয়া দরবার শরীফের পক্ষের লোকজন পরাজয় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।বাহাসে ওলামায়ে কেরামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুফতি শিব্বীর আহমদ সাঈদ, মুফতি আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা মনসুর রহমান, মাওলানা রুহুল আমিন, মাওলানা নাঈম উদ্দীন ফারুকী, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম ও মো. ফরহাদসহ রতনকান্দি ইউনিয়নের ওলামায়ে কেরাম, গ্রামের মুরুব্বি ও যুবকেরা।অন্যদিকে আলতাফিয়া দরবার শরীফের পক্ষ থেকে ছয়জন ব্যক্তি বাহাসে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে আব্দুস সালাম নামে একজনের নাম জানা গেছে।বাহাসকে কেন্দ্র করে চিলগাছা ও আশপাশের এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। উপস্থিত আলেমরা ধর্মীয় বিষয়ে মতভেদ থাকলেও তা শান্তিপূর্ণ ও দলিলভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।