খোলা বার্তা ডেস্ক:
জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী। এক পায়ে ভর করেই দিনমজুরের কাজ করে চালাতেন সংসার। কিন্তু হঠাৎ পায়ে ঘা থেকে ইনফেকশন হওয়ায় কেটে ফেলতে হয়েছে একটি পা। এরপর থেকেই চলাফেরা বন্ধ। এখন অন্যের কাছ থেকে মাত্র সাত দিনের জন্য ধার নেওয়া একটি হুইলচেয়ারই তাঁর চলাচলের একমাত্র ভরসা।মো. আবুল কালাম আজাদ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার মুকিমপুর এলাকার বাসিন্দা। জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও কর্মক্ষমতা দিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর একটি অটোরিকশাও ছিল। কিন্তু পায়ে সংক্রমণ হয়ে একটি পা কেটে ফেলতে হওয়ায় এখন আর কাজ করতে পারছেন না।সম্প্রতি রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা হয়। নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আগে কাজ করে খেতাম। পা কাটার পর এখন আর কিছুই করতে পারি না। অন্য একজনের কাছ থেকে সাত দিনের জন্য একটি হুইলচেয়ার ধার নিয়েছি। সাত দিন পর এটা ফেরত দিতে হবে। তখন আমি কীভাবে চলব, জানি না।”এদিকে বাবার অসুস্থতার পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে তাঁর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে সুমনকে। বাবার অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের খরচ জোগানোর চেষ্টা করছে সে।সুমন বলেন, “বাবার একটি অটোরিকশা ছিল। বাবার পা কাটার পর আমি সেই অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। আমি নবম শ্রেণিতে পড়ি। সংসার চালানোর জন্য এখন পড়াশোনা বাদ দিয়ে অটোরিকশা চালাতে হচ্ছে।”একদিকে বাবার চিকিৎসা ও চলাফেরার সংকট, অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব—সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে পরিবারটি। আবুল কালামের জন্য একটি হুইলচেয়ার যেমন জরুরি, তেমনি তাঁর ছেলে সুমনের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যও প্রয়োজন সহযোগিতা।স্থানীয়রা জানান, মানবিক সহায়তা পেলে আবুল কালাম অন্তত চলাফেরার জন্য একটি হুইলচেয়ার পেতে পারেন এবং তাঁর ছেলেটিও আবার পড়াশোনায় ফিরতে পারবে। অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।সাত দিন পর হুইলচেয়ারটি ফেরত দিতে হবে—এরপর কীভাবে চলবেন, সেই দুশ্চিন্তাই এখন আবুল কালাম আজাদের চোখে-মুখে।