রবিউল ইসলাম রবি,, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তিনি স্বপ্ন দেখান, পথ দেখান এবং একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে দেন। বগুড়ার ধুনট উপজেলার বিশ্বহরিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমরুল কায়েস খান দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে সেই দায়িত্বই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে চলেছেন। তাঁর শিক্ষকতা জীবনের দুই যুগের পথচলায় অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিভিন্ন পেশায়।২০০৩ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে কর্মজীবন শুরু করেন এমরুল কায়েস খান। এরপর ২০০৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ধুনট উপজেলার উত্তরপ্রান্তের চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বর্তমানে তিনি বিশ্বহরিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।শিক্ষকতা জীবনে পাঠদান ও বিদ্যালয় পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছর গণিত বিষয়ের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গণিত শিক্ষাকে সহজ, কার্যকর ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন তিনি।পেশাগত দক্ষতা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনবার উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে সম্মাননা অর্জন করেছেন এমরুল কায়েস খান। তবে এসব স্বীকৃতির চেয়েও তাঁর কাছে বড় অর্জন শিক্ষার্থীদের সাফল্য।তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সহকারী জজ, ব্যাংকার, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। অনেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকতা করছেন। আবার কেউ দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।একজন শিক্ষকের কাছে নিজের শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দৃশ্যই যেন সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সেই প্রাপ্তির কথাই উঠে আসে এমরুল কায়েস খানের বক্তব্যে।তিনি বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বড় আনন্দ ও গর্ব আর কী হতে পারে—নিজের শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে দেখা।”২৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে নানা পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শ্রেণিকক্ষের পাঠদান থেকে বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ থেকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে সহযোগিতা—সব ক্ষেত্রেই নিজের দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে পালন করেছেন তিনি।তাঁর কাছে শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়; এটি মানুষ গড়ার একটি দায়িত্ব। একটি শিশুর হাতে বই তুলে দিয়ে তার চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন জাগিয়ে তোলাই যেন তাঁর দীর্ঘ পথচলার মূল উদ্দেশ্য।দীর্ঘ এই পথচলায় সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও শিক্ষা পরিবারের যাঁরা ভালোবাসা, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।২০০৩ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শুরু হওয়া কর্মজীবন ২০০৫ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নতুন দায়িত্বে রূপ নেয়। এরপর কেটে গেছে ২৪ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও অনুপ্রেরণার নাম।পদক ও সম্মাননা একজন শিক্ষকের পেশাগত অর্জনের স্বীকৃতি হতে পারে; কিন্তু শিক্ষার্থীর সাফল্যই একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এমরুল কায়েস খানের দুই যুগের শিক্ষকতা সেই সাফল্যের অসংখ্য গল্পে সমৃদ্ধ।