নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নাদোসৈয়দপুর গ্রামে ২০০৭ সাল থেকে চলে আসা জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘরের প্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল হালিম মন্ডল (৬০) একই এলাকার মোঃ জামাল (৫০), মোঃ কামাল (৪৮) ও মোঃ আতাউর (৩৮)-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের লিখিত অভিযোগ এনেছেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী বলছেন—মূলত পৈত্রিক ভিটায় অনধিকার ঘর তোলায় আংশিক প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে, তবে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই এই মিথ্যা লুটপাটের নাটক সাজানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাদোসৈয়দপুর গ্রামের পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। গত ৬ অক্টোবর বিকেলে জমিসংক্রান্ত সেই বিরোধের জেরে মোঃ জামাল ও মোঃ কামালসহ সংশ্লিষ্টরা ক্ষুব্ধ হয়ে হালিমের ঘরের সামান্য প্রাচীর ভেঙে ফেলে।তবে টাকা ও গহনা লুটের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে অভিযুক্ত মোঃ জামাল বলেন, “২০০৭ সাল থেকে এই জায়গা নিয়ে ঝামেলা চলছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও আব্দুল হালিম তা মানেনি। আমাদের পৈত্রিক জায়গায় ঘর তোলায় রাগের মাথায় আমি ও আমার ভাই কামাল দেয়ালের সামান্য অংশ ভেঙেছি। কোনো কিছু লুটপাট করা হয়নি; আমাদের ফাঁসাতেই প্রতিপক্ষ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুটের মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।”এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জানান, "জায়গাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। তবে গত ৬ অক্টোবর ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের কথা আমি এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানতে পেরেছি। জামাল ও কামালের পৈত্রিক জায়গায় ঘর থাকার কারণে দুই ভাই ঘরের সামান্য প্রাচীর ভেঙে ফেলেছে। তবে লুটের যে অভিযোগটি সেটা মিথ্যা।"স্থানীয় একাধিক গ্রামবাসীও জানান, ২০০৭ সাল থেকে এই জায়গা নিয়ে বিরোধ বিদ্যমান। ঘটনার দিন ক্ষোভের বশে ঘরের প্রাচীরের সামান্য অংশ ভেঙে ফেলা হলেও কোনোরকম মারধর বা টাকা-গহনা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি।তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমাম জাফর বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তপূর্বক বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’