খোলা বার্তা ডেস্ক:
বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, চুলে ধরেছে পাক। জীবনের নানা ব্যস্ততা ও প্রতিকূলতায় শৈশবে কোরআন শেখা হয়নি। সেই অপূর্ণতা পূরণে পঞ্চাশোর্ধ্ব ৪২ ব্যক্তি এখন নিয়মিত শিখছেন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত। তাঁদের এই ধর্মীয় শিক্ষার যাত্রায় উৎসাহ দিতে বিনামূল্যে কোরআন শরিফ বিতরণ করেছে শেখ আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি তাঁদের একজন পেয়েছেন বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ।শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের দ্বিতীয় ব্যাচের ৪২ জন শিক্ষার্থীর হাতে কোরআন শরিফ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় লটারির মাধ্যমে ৭০ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম তারা নামের এক ব্যক্তিকে ওমরাহ পালনের সুযোগ দেয় স্যাম ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস।শিক্ষার্থীদের কেউ সবজি বিক্রি করেন, কেউ দিনমজুর, আবার কেউ ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। জীবনের নানা ব্যস্ততা, অভাব ও পারিবারিক সমস্যার কারণে ছোটবেলায় কোরআন শেখার সুযোগ পাননি তাঁরা। সেই আক্ষেপ ঘোচাতে গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত মসজিদে এসে কোরআন পড়া শিখছেন। পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শুদ্ধভাবে আদায়েরও চেষ্টা করছেন।ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়ে আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। গত ১৫ মাস ধরে আমি কোরআন শেখার চেষ্টা করছি। আল্লাহর রহমতে এখন ভালোই পড়তে পারি।’৭০ বছর বয়সে কোরআন শেখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগে নানা কারণে কোরআন শেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। হয়তো আল্লাহ এখন আমাকে কবুল করেছেন, এ কারণেই শেখার সুযোগ পেয়েছি।’স্যাম ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের এস এম মোমেন বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই বিনা খরচে ওমরাহ পালনের জন্য এমন সুযোগ দিয়ে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার লটারির মাধ্যমে শফিকুল ইসলাম বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। এ পর্যন্ত আমরা ১২ জনের বেশি মানুষকে বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দিয়েছি।’ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের দ্বিতীয় ব্যাচের পাঠদান শুরু হয় ২০২৫ সালের ৯ জুলাই। কামারখন্দ উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম আব্দুল মোমেন এই কার্যক্রমে শিক্ষকতা করছেন। প্রতিদিন মাগরিবের নামাজের পর থেকে এশার নামাজ পর্যন্ত চলে পাঠদান।ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দ্বিতীয় ব্যাচের কার্যক্রম আরও তিন মাস চলবে। এরপর তৃতীয় ব্যাচের পাঠদান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আরও বয়স্ক মানুষকে বিনামূল্যে কোরআন শেখার সুযোগ করে দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।অনুষ্ঠানে কামারখন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুনসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।