খোলা বার্তা ডেস্ক:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে প্রস্তাবিত ভূইয়াগাঁতী ইউনিয়ন পরিষদে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এসব ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। নিজেদের বর্তমান ইউনিয়ন চান্দাইকোনাতেই থাকার দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও মতবিনিময় সভা করেছেন পূর্ব পাইকড়া, খোকশাহাট ও লক্ষীকোলা এলাকার বাসিন্দারা।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল থেকে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের পূর্ব পাইকড়া ও পশ্চিম লক্ষীকোলা নতুন বাজার এলাকায় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে গণস্বাক্ষর শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় মুরব্বি মো. ছোরহাবুল আলম। যুবক শাকিল আহমেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাইদুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, আবু সুফিয়ান, মুক্তার হোসেন, আমিনুর ইসলাম, ইউসুফ আলী ও মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।সভায় বক্তারা বলেন, ভূইয়াগাঁতী নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা প্রস্তাবিত নতুন ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হতে চান না। এ কারণে তাঁরা গণশুনানিতে অংশ নেননি।বক্তারা আরও বলেন, নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন একটি ভালো উদ্যোগ। তবে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাঁরা চান্দাইকোনা ইউনিয়নেই থাকতে চান। এ দাবির সমর্থনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে। দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তাঁরা।বক্তারা অভিযোগ করেন, ভূইয়াগাঁতীতে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরতে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে বক্তব্য দিতে গেলে প্রতিনিধিরা স্থানীয় আগ্রহী জনতার তোপের মুখে পড়েন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই ওই চার প্রতিনিধিকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।বক্তারা বলেন, নতুন ইউনিয়ন গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবার মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, ভূইয়াগাঁতীর পরিবর্তে অন্য কোনো নিরপেক্ষ স্থানে গণশুনানির আয়োজন করা হলে সংশ্লিষ্ট সবাই বাধাহীনভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরতে পারতেন। কিন্তু তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে আগের ইউনিয়নের সঙ্গে বহাল রাখার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।