মোহসীন মোহাম্মদ মাতৃক, মানিকগঞ্জ:
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কলেজছাত্র রিদয়ান আনসারী (২৫) নিখোঁজ হওয়ার পর মুক্তিপণ হিসেবে ৪০ হাজার টাকা দিয়েও তাঁর সন্ধান পায়নি পরিবার। অপহরণের কথা বলে ফোনে কয়েক দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পরিবার। পাশাপাশি র্যাবের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।নিখোঁজ রিদয়ান আনসারী ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তাড়াইল গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান আনসারীর ছেলে। তিনি বিবিএ পড়ার পাশাপাশি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় বসবাস করতেন তিনি।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশে রওনা হন রিদয়ান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন হাসপাতাল ও থানায় খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি স্বজনেরা।পরিবারের অভিযোগ, রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন করে রিদয়ানকে অপহরণের কথা জানানো হয়। এ সময় ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য কয়েক সেকেন্ডের জন্য রিদয়ানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা বলিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি তাঁদের।পরিবার জানায়, প্রথমে একটি বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অন্য একটি বিকাশ নম্বরে আরও ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর ঢাকার হাতিরঝিলের ২ নম্বর ব্রিজে গিয়ে রিদয়ানকে নিয়ে যেতে বলা হয়। এ পর্যায়ে একটি নগদ নম্বরে আরও পাঁচ হাজার টাকা পাঠায় পরিবার। সব মিলিয়ে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তাঁর সন্ধান মেলেনি।এ ঘটনায় রিদয়ানের খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ গত রোববার কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তাঁকে উদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে র্যাব-৩-এর খিলগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।রিদয়ানের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী বলেন, “টাকা দেওয়ার পরও ভাইকে ফিরে না পাওয়ায় আমরা পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমরা শুধু আমার ভাইকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চাই।”তিন ভাইবোনের মধ্যে রিদয়ান সবার ছোট। তাঁকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবার।