খোলা বার্তা ডেস্ক:
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলা বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।বুধবার রাতে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবি, পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে মেলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।দুর্গাপূজার পর প্রতিবছর কাজিপুরের সোনামুখীতে এ মেলা বসে। পুরোনো ঐতিহ্যের এ মেলা মূলত কাঠের আসবাবপত্রের জন্য পরিচিত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। তবে এবার মেলার পাশাপাশি দুটি মঞ্চে সার্কাস ও যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়েছিল।সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হোসেন বলেন, ১৫ দিনের জন্য মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গত ৩ নভেম্বর সেই অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া সার্কাস ও যাত্রাপালায় অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চালানোর অনুমতি থাকলেও নিয়ম অমান্য করে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে এসব আয়োজন চলছিল। এসব কারণে মেলা বন্ধ করা হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তিন দফায় সার্কাস দেখানো হতো। এর টিকিটের মূল্য ছিল ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলত যাত্রাপালা। এর টিকিটের দাম ছিল ২০০ থেকে এক হাজার টাকা। এসব আয়োজনে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, মেলার অনুমতি দেওয়ার সময় আয়োজকদের বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা সেসব শর্ত না মেনে অশ্লীল নৃত্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন। এ কারণে মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে মেলা বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আয়োজকেরা। তাঁরা পুনরায় মেলা চালুর অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান।মেলা আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম তোতা বলেন, ষড়যন্ত্র করে ছড়ানো ভিডিও ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে মেলা বন্ধ করা হয়েছে। এতে কাঠের আসবাবপত্র ও খেলনার ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আবারও মেলা চালুর অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।