মো. রাজু শেখ,, স্টাফ রিপোর্টার (রায়গঞ্জ):
দৃষ্টিহীন মা আয়েশা খাতুনের অসহায়ত্বের কথা খোলা বার্তা অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সংগঠন ‘সুখ পাখি’। আমেরিকাপ্রবাসী এক ব্যক্তির অর্থায়নে পরিবারটিকে দেওয়া হয়েছে দুটি ছাগল, দুই বস্তা চাল ও চারটি মুরগি। এতে তিন সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা আয়েশার পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ‘আলোর জন্য জাকাত তহবিল’ প্রকল্পের আওতায় এসব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। মানবিক সংগঠন সুখ পাখির প্রতিষ্ঠাতা শেখ রজব সহায়তাসামগ্রী গণমাধ্যমকর্মী সাইদুল ইসলাম আবিরের কাছে পৌঁছে দেন। পরে তিনি সেগুলো আয়েশা খাতুনের পরিবারের হাতে তুলে দেন।সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত আয়েশা খাতুন বলেন, ‘আমি নিজেই চোখে দেখতে পাই না। আমার মেয়েটাও প্রতিবন্ধী। স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। সংসারে কোনো আয় নেই। মেয়ের চিকিৎসা করানোরও সামর্থ্য নেই। এমন অবস্থায় ছাগল, চাল ও মুরগি পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাঁদের ভালো রাখেন।’আয়েশা খাতুন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার বেতুয়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে আকলিমা শারীরিক ও বাক্প্রতিবন্ধী। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারে না, কথাও বলতে পারে না। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে চর্মরোগের ঘা রয়েছে। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না মা।দুই বছর আগে আয়েশার স্বামী কবির হোসেন মারা যান। এরপর থেকেই তিন সন্তানকে নিয়ে কঠিন জীবনসংগ্রাম শুরু হয় তাঁর। নিজের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে কাজ করে সংসার চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিবন্ধী ভাতার সামান্য অর্থ আর মানুষের সহযোগিতায় কোনো রকমে দিন পার করছেন তিনি।খোলা বার্তা অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ায় পরিবারটির দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি মানবিক সংগঠন সুখ পাখির নজরে আসে। এরপর আমেরিকাপ্রবাসী এক ব্যক্তির অর্থায়নে পরিবারটির জন্য এই সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়।মানবিক এই উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে শুধু এককালীন সহায়তা নয়, আয়েশার প্রতিবন্ধী মেয়ের সুচিকিৎসা, পরিবারের নিয়মিত খাদ্যনিরাপত্তা এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রয়োজন।