খোলা বার্তা ডেস্ক:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আদালতের ১৪৪ ধারা ও নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা বিরোধপূর্ণ জমি থেকে রাতের আঁধারে কাঁচা-পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে উপজেলার নলছিয়া গ্রামের একটি ফসলি জমিতে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা এবং জমিতে ১৪৪ ধারা জারি থাকার পরও প্রতিপক্ষের লোকজন ধান কেটে নিয়ে গেছে। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন এবং রায়গঞ্জ থানায় মৌখিকভাবে জানান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ধান উদ্ধার বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তাঁরা।ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২১ নম্বর নলছিয়া মৌজার আরএস ২৪২ খতিয়ানের ১৫০৯ ও ১৬২৯ দাগে মোট ৫০ শতক ফসলি জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তাঁদের দাবি, ১৯৭৪ সালে জমিটির পূর্ববর্তী মালিকেরা ধীরেন্দ্রনাথ সরকারের কাছে জমি বিক্রি করেন। তাঁর নামে আরএস খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ান রয়েছে। ধীরেন্দ্রনাথ সরকার ২০০৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩১ বছর জমিটি ভোগদখলে রাখার পর নিবন্ধিত দলিলমূলে মীর মাহবুব মোর্শেদ ও মিনারা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকে তাঁরা স্থানীয় বর্গাচাষির মাধ্যমে জমিটি চাষাবাদ করে আসছেন।পরবর্তী সময়ে স্থানীয় মগরব দফাদার গং জমিটি জবরদখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় এমআর মামলা (নং-৪১২/২০২৬) বিচারাধীন রয়েছে। তাঁদের দাবি, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রায়গঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে বাদীপক্ষের দীর্ঘদিনের ভোগদখলের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে দাবি তাঁদের।এ ছাড়া জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে এর আগে রায়গঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০৮১) করা হয়। ওই জিডিতে মগরব দফাদার (৫০), ফরজ আলী (৫৫), রফিকুল ইসলাম (৪৫), শফিকুল চৌকিদার (৪২), খায়রুল (৩০), সোহাগ (২৮) ও জাহাঙ্গীরের (৩২) নাম উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের সবার বাড়ি উপজেলার নলছিয়া গ্রামের বেড়েরপাড়া এলাকায় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলা ও জিডি থাকার পরও প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময়ে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে তাঁরা জমির কাঁচা-পাকা ধান কেটে নিয়ে যান। এতে ফসল হারিয়ে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, কেটে নেওয়া ধান উদ্ধার এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার ও রায়গঞ্জ থানা পুলিশের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।