নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে দুই দিন ধরে অনশন করছেন হাসি নামের এক তরুণী। গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেল থেকে উপজেলার মোজাফফরপুর ইউনিয়নের মোজাফফরপুর গ্রামের নাহিদ হাসানের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে তিনি এ অনশন শুরু করেন। অনশনরত হাসি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বাসিন্দা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোজাফফরপুর গ্রামের মিল্টন মিয়ার ছেলে নাহিদ হাসানের সঙ্গে হাসির দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১৬ জুন কিশোরগঞ্জ আদালতে ৮ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি করেন হাসি।হাসির দাবি, বিয়ের পর পরিবারের আপত্তির কারণে তারা তাড়াইল এলাকার এক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পরে শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাদের নাহিদের বাড়িতে নিয়ে এলেও সেখানে তাদের গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে অনশন শুরু করেছেন।এর আগে গত ৩ জুন পারিবারিকভাবে তপু নামের এক যুবকের সঙ্গে হাসির বিয়ে হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে হাসি ওই বিয়ে অস্বীকার করে বলেন, “নাহিদই আমার একমাত্র স্বামী।”তবে নাহিদের পরিবার এ বিয়ে মেনে নিতে নারাজ। নাহিদের মায়ের দাবি, তার ছেলে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং বয়স মাত্র ১৬ বছর। অন্যদিকে হাসি উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত। তিনি অভিযোগ করেন, ভুল বুঝিয়ে তার নাবালক ছেলেকে বিয়ে করা হয়েছে।নাহিদের বাবা মিল্টন মিয়া মুঠোফোনে বলেন, “ছেলে বিয়ে করলে তার স্ত্রীকে ঘরে তুলতে আমার আপত্তি নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে গ্রামের মাতব্বররা সমাধানের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তরুণী আইনি স্বীকৃতির দাবিতে অনড় রয়েছেন।”এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”