ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
খোলা বার্তা

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য খবার ও বিনোদনের মাধ্যমে ঈদ আয়োজন ইউএনওর

সুবিধাবঞ্চিত, এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে নিয়ে দিনভর ঈদ উদযাপন করেছেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাসুদুর রহমান।শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার দুটি এলাকার ৯০ জন শিশুদের জন্য খাবার ও বিনোদনের ব্যতিক্রম এ ব্যবস্থার মাধ্যমে এ উদযাপন করেন ইউএনও।শনিবার ঈদুল ফিতরের নামাজের পর মিরকাদিম পৌরসভার তিলার্দী মহল্লায় পক্ষাঘাত গ্রস্থ ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত “স্বপ্নজয়ী পাঠশালা” যান মাসুদুর রহমান। ওই পাঠশালার ৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য তিনি ব্যক্তিগত উদ্যােগে বিরিয়ানি ও সেমাই রান্নার ব্যবস্থা করেন। রান্না চলতে থাকা সময়ে শিশুদের সঙ্গে গল্প,আড্ডা দেন ইউএনও। ওই ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গান,কবিতার আয়োজনও করেন।রান্না শেষে দুপুরে নিজ হাতে আপ্যায়ন করেন ইউএনও। এ দিন দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার ঘাসিপুকুর পার এলাকার মাদ্রাসাতুরল রুহামা আল-ইসলামিয়া এতিমখানার শিশুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেতে যান ইউএনও। সেখানেও ৪০ জন শিশুে জন্য পোলাও,মাংশ,ডিম ও সেমাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়। দুপুরে খাবার শেষে ওই এতিম শিশুদের বিভিন্ন দাবির কথা শুনেন ইউএনও। ইসলামিক রিতীমেনে শিশুদের অংশ গ্রহনে সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়।সুবিধাবঞ্চিত, এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য এমন আয়োজনে খুশি ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও অভিভাবকরা।ইউএনওর এমন উদ্যাগের প্রসংশা করে তাঁরা জানান,যখন কোন বিশেষ দিন আসে তখন আপনজনদের মিস করে শিশুরা।টাকার অভাবে তাদের ভালো খাবার ও পোশাক জোটেনা তাদের। আশপাশে যখন আনন্দ আয়োজন চলে তখন এতিম ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুগুলো আরো বেশি কষ্ট পেতে থাকে। মাসুদুর রহমানের মত প্রতিটি সরকারি দপ্তরের বড় কর্মকর্তা,এলাকার দানবীর ব্যক্তিরা যদি ঈদসহ বিশেষ দিনগুলোতে এমন সুবিধা বঞ্চিত প্রতিষ্ঠান গুলোর পাশে থাকতো,তাহলে শিশুদের ঈদ আনন্দ বহুগুন বেড়ে যেতে।মো.মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা সবসময়ই সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। ঈদুল ফিতর আমাদের জন্য আনন্দ,সম্প্রীতি ও ভাগাভাগির এক মহৎ উপলক্ষ। এই আনন্দ যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে পৌঁছে যায়—এই লক্ষ্য থেকেই আমরা মুন্সিগঞ্জ সদরের স্বপ্নজয়ী পাঠশালা এবং মাদ্রাসাতুর রুহামা আল-ইসলামিয়া এতিমখানার শিশুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার ক্ষুদ্র প্রয়াস গ্রহণ করেছি।এই আয়োজনের মাধ্যমে এতিম, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, একসাথে খাবার ভাগাভাগি করা—এসব আমাদের দায়িত্ববোধকে আরও গভীর করে এবং মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে।আমি বিশ্বাস করি, সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান ব্যক্তি যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সহমর্মিতাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।এছাড়াও শুক্রবার সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী নির্দেশনায় মীরকাদিম পৌরসভায় বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।শুক্রবার মিরকাদিম পৌরসভার পক্ষ থেকে ১০০টি পরিবারের মধ্যে ঈদ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য খবার ও বিনোদনের মাধ্যমে ঈদ আয়োজন ইউএনওর