ঢাকা    বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
খোলা বার্তা

কৃষকের জানালা

জলাবদ্ধতায় পানির নিচে ৩ হাজার বিঘা পাকা ধান, দিশেহারা রায়গঞ্জের কৃষক

টানা বৃষ্টি আর পানি নিষ্কাশনের সংকটে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন যেন ছোট ছোট জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। মাঠজুড়ে শুধু পানি আর পানির নিচে তলিয়ে থাকা পাকা ধান। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার শত শত কৃষক।শনিবার (১৬ মে) সরেজমিনে উপজেলার সোনাখাড়া ও ধুবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমির পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। কলিয়া, শ্রীরামপুর, গোপালপুর, পশ্চিম আটঘরিয়া, গোপীনাথপুর, চকদাদপুর, বাশাইল, রাজাপুর ও বোয়াইল মৌজার বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা।স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বাড়ছে জলাবদ্ধতা, আর ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।কৃষক মঈনুল হক বলেন, “আমন মৌসুমে জমিতে কোনো আবাদই করা যায় না। ইরি-বোরো চাষ করলেও শেষ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পারি না।”আরেক কৃষক সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, “এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা শ্রমিক খরচ হয়। পানিতে ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ব্যবসায়ীরাও সেই ধান কিনতে চায় না। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়।”হাঁটুসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে গিয়ে দুর্ভোগের কথা জানান দিনমজুর কালু সেখ। তিনি বলেন, “পানির মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে খুব কষ্ট হয়।”স্থানীয় জোতদার আব্দুল কুদ্দুস সরকার বলেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ করা জরুরি। তা না হলে নতুন করে পুকুর খননের অনুমতি বন্ধ করা উচিত।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুমে যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, সেগুলো চিহ্নিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। বর্ষা শুরুর আগেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভাতেও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জলাবদ্ধতায় পানির নিচে ৩ হাজার বিঘা পাকা ধান, দিশেহারা রায়গঞ্জের কৃষক