ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
খোলা বার্তা

নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবন দখলচেষ্টার অভিযোগ, প্রতিবাদে অপর পক্ষের তালা

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের নির্মাণকাজ ও সরকারি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই এক পক্ষের এককভাবে ভবন দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদস্বরূপ অপর পক্ষ ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণাধীন ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব একটি সংগঠন হিসেবে পরিচালিত হলেও সাংগঠনিক মতবিরোধের জেরে পরবর্তীতে একই নামে দুটি পৃথক কমিটি গঠিত হয়। এরপর থেকেই নবনির্মিত প্রেসক্লাব ভবনের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেনি। এমন অবস্থায় একাংশের সভাপতি ও যুবলীগ নেতা সুহেল তালুকদারের নেতৃত্বে একটি পক্ষ ভবনের তালা ভেঙে এককভাবে দখলের চেষ্টা চালায়।এ ঘটনায় অপর পক্ষ বাধা দিয়ে বাজার কমিটির নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়। অভিযোগের কয়েক দিন অতিবাহিত হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই ভবন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি শান্তিগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সব সাংবাদিকের যৌথ সম্পদ। নির্মাণকাজ শেষ করে প্রশাসনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগে কোনো পক্ষের এককভাবে ভবন ব্যবহার বা দখলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল কবির বলেন, “নবনির্মিত এই ভবন উপজেলার সব সাংবাদিকের যৌথ অধিকার। মতপার্থক্য থাকলেও ভবনটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবার সমান অধিকার রয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া প্রয়োজন।”সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক বলেন, “সাংগঠনিক বিরোধের কারণে সাংবাদিকরা দুটি অংশে বিভক্ত হয়েছেন। বর্তমান বাস্তবতায় উভয় পক্ষেরই দাবি রয়েছে। বিষয়টির সমাধান আইনসম্মত ও আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ভবনটি সব সাংবাদিকের সম্পদ। তাই প্রশাসনের নিরপেক্ষ উদ্যোগে ন্যায়সংগত সমাধান কামনা করছি।”প্রতিবাদকারী সাংবাদিকদের দাবি, ভবন দখলে ব্যর্থ হয়ে একটি পক্ষ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ, মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। এসব অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত নিষ্পত্তি এবং সরকারি ভবনটি সকল সাংবাদিকের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন।প্রতিবাদ সমাবেশে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল কবির, সহ-সভাপতি এম. এ. কাশেম চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, কাজী ছাদিকুর রহমান আতিক, মো. আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক, সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ হাসান, অর্থ সম্পাদক আতিকুর রহমান রুয়েব, প্রচার সম্পাদক ছালিক আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক মান্নার মিয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক উসমান গনি, নির্বাহী সদস্য দিলীপ দাশ, আবিদ উদ্দিন, আহমদ উসমানসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, এ ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবন দখলচেষ্টার অভিযোগ, প্রতিবাদে অপর পক্ষের তালা