ঢাকা    শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
খোলা বার্তা

ফুলছড়িতে নৌকা বাইচে সহস্রাধিক জনতার ঢল



ফুলছড়িতে নৌকা বাইচে সহস্রাধিক জনতার ঢল

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাটের ব্রহ্মপুত্র নদে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী নৌকাবাইচ। নৌকাবাইচ দেখতে হাজার হাজার মানুষ নদের পাড়ে ভিড় জমান। আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে স্থানীয় ও আশপাশের জেলা থেকে আসা মানুষ আটটি দলের নৌকাবাইচ উপভোগ করেন।

আয়োজকরা বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখে সবাই মুগ্ধ।

 উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জগৎবন্ধু মণ্ডল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সাঘাটা-ফুলছড়ির জনপ্রিয় নেতৃত্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ, আয়োজক সৈকত আহমেদ প্রমুখ।

এলাকাবাসীরা জানান, ব্রহ্মপুত্রে এক সময় বছরের নির্দিষ্ট সময় নৌকাবাইচের বিরাট  আয়োজন হতো। গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে এই আয়োজন খুবই প্রিয় ছিল।

কিন্তু অন্যান্য ছোট নদীতে সীমিত পরিসরে নৌকাবাইচ হলেও ব্রহ্মপুত্রে এই আয়োজন নতুন করে শুরু হয় ৫৩ বছর পর গত বছর থেকে। ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন যুব সমাজ এই বিশাল আয়োজনটি করে।

বিকেল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রথম দিন নকআউট পর্যায়ে চারটি দল বাদ পড়ে।

ব্রহ্মপুত্রের সৈয়দপুরঘাট থেকে বালাসীঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশে প্রতিযোগিতার জন্য নির্ধারণ করা হয়। এলাকার তরুণদের এই আয়োজনে গাইবান্ধা, জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রৌমারী, রংপুর, বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসে  নৌকাবাইচ দেখতে। 

আয়োজকরা বলেন, ‘এই নৌকাবাইচে বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা এক্সপ্রেস, জামালপুরের শেরে বাংলা, কুড়িগ্রামের বোগাদহ একতা তরী ও মা বাবার দোয়া, দেওয়ানগঞ্জের হাওয়ার তরী, জামালপুরের মীর বাবা, সুন্দরগঞ্জের শের আলী, কঞ্চিপাড়ার বালাসী তুফানসহ আটটি নৌকা অংশ নিচ্ছে। নৌকাগুলোতে ৬৪০ জন মাল্লা রয়েছেন। ফাইনালে প্রথম বিজয়ী পুরস্কার হিসেবে পাবে মোটরসাইকেল, দ্বিতীয় ফ্রিজ এবং তৃতীয় বিজয়ী পাবে টেলিভিশন।

নৌকাবাইচ দেখতে আসা সংস্কৃতিকর্মী মানিক বাহার বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির অন্যতম অনুসঙ্গ এই বাইচ। শক্তিমত্তা, হুংকার, যোগাড়ীদের গান, নানা ধরনের উদ্দীপনামূলক ছড়া কাটার বিষয়টি প্রতিযোগিতায় অভিনব মাত্রা যোগ করেছে।’


যমুনা এক্সপ্রেসের মাল্লা সাইদুর রহমান (৪৩) বলেন, ‘এই নৌকাবাইচের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চাই। এই প্রজন্মের কিশোর তরুণরা নৌকাবাইচসহ গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর নাম পর্যন্ত জানে না। তাদের উৎসাহ দিতে আমরা অনেক কষ্ট করে খেলাটি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। এটি আমাদের নেশা।’

ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক নাহিদুজ্জামান নিশাদ বললেন, ‘মূল বিষয় নির্মল বিনোদন। এই ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা গেলে অপসংস্কৃতি, মাদক থেকে তরুণদের দূরে রাখা যাবে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে এই আয়োজন।’


আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


ফুলছড়িতে নৌকা বাইচে সহস্রাধিক জনতার ঢল

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাটের ব্রহ্মপুত্র নদে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী নৌকাবাইচ। নৌকাবাইচ দেখতে হাজার হাজার মানুষ নদের পাড়ে ভিড় জমান। আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে স্থানীয় ও আশপাশের জেলা থেকে আসা মানুষ আটটি দলের নৌকাবাইচ উপভোগ করেন।

আয়োজকরা বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখে সবাই মুগ্ধ।

 উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জগৎবন্ধু মণ্ডল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সাঘাটা-ফুলছড়ির জনপ্রিয় নেতৃত্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ, আয়োজক সৈকত আহমেদ প্রমুখ।

এলাকাবাসীরা জানান, ব্রহ্মপুত্রে এক সময় বছরের নির্দিষ্ট সময় নৌকাবাইচের বিরাট  আয়োজন হতো। গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে এই আয়োজন খুবই প্রিয় ছিল।

কিন্তু অন্যান্য ছোট নদীতে সীমিত পরিসরে নৌকাবাইচ হলেও ব্রহ্মপুত্রে এই আয়োজন নতুন করে শুরু হয় ৫৩ বছর পর গত বছর থেকে। ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন যুব সমাজ এই বিশাল আয়োজনটি করে।

বিকেল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রথম দিন নকআউট পর্যায়ে চারটি দল বাদ পড়ে।

ব্রহ্মপুত্রের সৈয়দপুরঘাট থেকে বালাসীঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশে প্রতিযোগিতার জন্য নির্ধারণ করা হয়। এলাকার তরুণদের এই আয়োজনে গাইবান্ধা, জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রৌমারী, রংপুর, বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসে  নৌকাবাইচ দেখতে। 

আয়োজকরা বলেন, ‘এই নৌকাবাইচে বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা এক্সপ্রেস, জামালপুরের শেরে বাংলা, কুড়িগ্রামের বোগাদহ একতা তরী ও মা বাবার দোয়া, দেওয়ানগঞ্জের হাওয়ার তরী, জামালপুরের মীর বাবা, সুন্দরগঞ্জের শের আলী, কঞ্চিপাড়ার বালাসী তুফানসহ আটটি নৌকা অংশ নিচ্ছে। নৌকাগুলোতে ৬৪০ জন মাল্লা রয়েছেন। ফাইনালে প্রথম বিজয়ী পুরস্কার হিসেবে পাবে মোটরসাইকেল, দ্বিতীয় ফ্রিজ এবং তৃতীয় বিজয়ী পাবে টেলিভিশন।

নৌকাবাইচ দেখতে আসা সংস্কৃতিকর্মী মানিক বাহার বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির অন্যতম অনুসঙ্গ এই বাইচ। শক্তিমত্তা, হুংকার, যোগাড়ীদের গান, নানা ধরনের উদ্দীপনামূলক ছড়া কাটার বিষয়টি প্রতিযোগিতায় অভিনব মাত্রা যোগ করেছে।’


যমুনা এক্সপ্রেসের মাল্লা সাইদুর রহমান (৪৩) বলেন, ‘এই নৌকাবাইচের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চাই। এই প্রজন্মের কিশোর তরুণরা নৌকাবাইচসহ গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর নাম পর্যন্ত জানে না। তাদের উৎসাহ দিতে আমরা অনেক কষ্ট করে খেলাটি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। এটি আমাদের নেশা।’

ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক নাহিদুজ্জামান নিশাদ বললেন, ‘মূল বিষয় নির্মল বিনোদন। এই ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা গেলে অপসংস্কৃতি, মাদক থেকে তরুণদের দূরে রাখা যাবে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে এই আয়োজন।’



খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. একরামুল হক
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
প্রধান নির্বাহী : সাইদুল ইসলাম আবির।
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত