ঢাকা    শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
খোলা বার্তা

শাল্লায় খাদ্যবান্ধব ডিলারের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ



শাল্লায় খাদ্যবান্ধব ডিলারের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ১নং আটগাঁও ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার সালাম মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে চাল বিতরণ ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নীতিমালা-২০২৪ অনুযায়ী ডিলারের নির্ধারিত বাজার এলাকায় নিজস্ব বা বৈধ ভাড়ার দোকান থাকা বাধ্যতামূলক এবং সেখানে কমপক্ষে ১৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু ডিলার সালাম মিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি জমিতে সিমেন্টের পিলার বসিয়ে একটি স্থাপনা নির্মাণ করে গত দুই মাস ধরে চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সেখানে সর্বোচ্চ ৫-৬ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য রাখা সম্ভব—যা নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ডিলারশিপ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগসাজশ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকায় কয়েকজন বলেন, ডিলার সালাম মিয়ার ডিলারশিপ অনুমোদনে স্বচ্ছতা নেই এবং সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণে প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে।

দাউদপুর বাজার কমিটির সহ-সভাপতি প্রেমতুষ দাস বলেন, “যে জায়গায় স্থাপনাটি করা হয়েছে, সেখানে আগে বেন্নাথ নামে একটি শিবগাছ ছিল এবং পূজা-পার্বণে মানুষ এখানে প্রসাদ বিতরণ করতো। প্রথমে অস্থায়ী হিসেবে চাল বিতরণের কথা বললেও এখন সেটি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে।”

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, “সালাম মিয়া হঠাৎ করে ২০-৪০ জন লোক নিয়ে এসে সরকারি জায়গায় দখল করে পিলার বসান। আমরা জানতে চাইলে বলা হয়—‘চাল বিতরণের জন্য সাময়িক ঘর।’ বিষয়টি ইউএনও সাহেবও জানেন।”

অভিযুক্ত ডিলার সালাম মিয়ার ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এক সহযোগী জানান তিনি বাইরে আছেন।

এ বিষয়ে আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন-নোমান বলেন,
“স্থাপনাটি সরকারি জমিতে এবং এটি অবৈধ। যদিও ডিলারের বাজারে দোকান রয়েছে, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তিনি এখানে বিতরণ করছেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সচেতন মহল বলছে, সরকারি জমি দখল ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নীতিমালা লঙ্ঘন একটি গুরুতর অপরাধ। তারা অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিলারশিপ অনুমোদনের প্রক্রিয়া ও স্থাপনার বৈধতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


শাল্লায় খাদ্যবান্ধব ডিলারের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ১নং আটগাঁও ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার সালাম মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে চাল বিতরণ ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নীতিমালা-২০২৪ অনুযায়ী ডিলারের নির্ধারিত বাজার এলাকায় নিজস্ব বা বৈধ ভাড়ার দোকান থাকা বাধ্যতামূলক এবং সেখানে কমপক্ষে ১৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু ডিলার সালাম মিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি জমিতে সিমেন্টের পিলার বসিয়ে একটি স্থাপনা নির্মাণ করে গত দুই মাস ধরে চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সেখানে সর্বোচ্চ ৫-৬ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য রাখা সম্ভব—যা নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ডিলারশিপ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগসাজশ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকায় কয়েকজন বলেন, ডিলার সালাম মিয়ার ডিলারশিপ অনুমোদনে স্বচ্ছতা নেই এবং সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণে প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে।

দাউদপুর বাজার কমিটির সহ-সভাপতি প্রেমতুষ দাস বলেন, “যে জায়গায় স্থাপনাটি করা হয়েছে, সেখানে আগে বেন্নাথ নামে একটি শিবগাছ ছিল এবং পূজা-পার্বণে মানুষ এখানে প্রসাদ বিতরণ করতো। প্রথমে অস্থায়ী হিসেবে চাল বিতরণের কথা বললেও এখন সেটি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে।”

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, “সালাম মিয়া হঠাৎ করে ২০-৪০ জন লোক নিয়ে এসে সরকারি জায়গায় দখল করে পিলার বসান। আমরা জানতে চাইলে বলা হয়—‘চাল বিতরণের জন্য সাময়িক ঘর।’ বিষয়টি ইউএনও সাহেবও জানেন।”

অভিযুক্ত ডিলার সালাম মিয়ার ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এক সহযোগী জানান তিনি বাইরে আছেন।

এ বিষয়ে আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন-নোমান বলেন,
“স্থাপনাটি সরকারি জমিতে এবং এটি অবৈধ। যদিও ডিলারের বাজারে দোকান রয়েছে, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তিনি এখানে বিতরণ করছেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সচেতন মহল বলছে, সরকারি জমি দখল ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নীতিমালা লঙ্ঘন একটি গুরুতর অপরাধ। তারা অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিলারশিপ অনুমোদনের প্রক্রিয়া ও স্থাপনার বৈধতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. একরামুল হক
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
প্রধান নির্বাহী : সাইদুল ইসলাম আবির।
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত