ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
খোলা বার্তা

যমুনার চরে শরতের কাশফুল, প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়



যমুনার চরে শরতের কাশফুল, প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে শরৎ আসে প্রকৃতির অপরূপ রূপের পসরা সাজিয়ে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কোমল বাতাস আর ঝলমলে রোদের সঙ্গে শরতের অন্যতম অনুষঙ্গ কাশফুল। এবার সেই সৌন্দর্য আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ধরা দিয়েছে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে।

নদীর বুক থেকে জেগে ওঠা বালুচরে ফুটে থাকা হাজারো কাশফুলে সৃষ্টি হয়েছে শুভ্রতার এক অপরূপ সাম্রাজ্য। যমুনার ঢেউ, বিস্তীর্ণ বালুচর আর বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশফুলের মেলবন্ধনে চরাঞ্চল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, চৌহালী, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার যমুনা-সংলগ্ন বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখন কাশফুলের রাজত্ব। নাটুয়ারপাড়া, খাসরাজবাড়ী, তেকানী, চরগিরিশ, মনসুরনগর, মাইজবাড়ী, মেছড়া, কাওয়াকোলা ও কালিয়াহরিপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চরজুড়ে চোখে পড়ছে কাশবনের বিস্তৃত শুভ্রতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন যমুনার চরে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউ দলবেঁধে নৌকায় চড়ে পৌঁছে যাচ্ছেন কাশবনের কাছে। কাশবনের ভেতরে ঢুকতেই বদলে যায় চারপাশের দৃশ্য। বাতাসে কাশফুলের দোলা, পায়ের নিচে নরম বালু আর দিগন্তজোড়া সাদা ফুলের সমারোহ মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্মৃতি ধরে রাখছেন।

বিকেলের দৃশ্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। যমুনার বুকে সূর্যের আলো যখন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসে, তখন কাশবনের শুভ্রতার সঙ্গে নদীর জলে গোধূলির রঙ মিশে তৈরি করে অন্যরকম আবহ। সূর্যাস্তের সেই মুহূর্ত উপভোগ করতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।

কাশফুল দেখতে আসা মানুষের আনাগোনায় স্থানীয় নৌকার মাঝিদের আয়-রোজগারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নৌকার মাঝি শরিফুল বলেন, শরৎ মৌসুমে দর্শনার্থী বাড়ায় নৌকা চলাচলও বেড়েছে। ঘাটে আসা মানুষ নৌকায় চড়ে চরের কাশবন ঘুরে দেখতে আগ্রহী হন। এতে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করার সুযোগ হচ্ছে। ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

সিরাজগঞ্জের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও প্রকৃতিপ্রেমীরা আসছেন যমুনার চরে। বগুড়ার শেরপুর থেকে ঘুরতে আসা আকাশ ও রুপা বলেন, শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে তাঁরা যমুনার কাশবন দেখতে এসেছেন। কাশবনের সাদা সৌন্দর্য ও নদীর পরিবেশ একসঙ্গে উপভোগ করে তাঁরা মুগ্ধ।

দর্শনার্থী স্বপ্না, আঁখি, সাদিয়া, অনিক ও মারুফ বলেন, যমুনার চরের কাশবন তাঁদের মুগ্ধ করেছে। দিগন্ত বিস্তৃত কাশফুলের সৌন্দর্য চোখের পাশাপাশি মনকেও প্রশান্ত করে।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিবছর শরৎকালে যমুনার চরাঞ্চলে কাশফুল ফুটলেও এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

কাজিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বকুল বলেন, কাজিপুরের মেঘাই যমুনা নদীর পাড় একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। শরতের শুভ্রতায় যমুনার চরে যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়, তা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে। পরিকল্পিতভাবে এ সৌন্দর্যকে কাজে লাগানো গেলে পর্যটকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দর্শনার্থীরা কাশফুল ও চরাঞ্চলের পরিবেশ নষ্ট না করে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করবেন এবং যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না। পাশাপাশি নিরাপদ নৌযাত্রা, দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে যমুনার চরাঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় একটি পর্যটনকেন্দ্র।

শরতের সাদা কাশফুল, যমুনার নীল জল আর বিস্তীর্ণ বালুচরের মেলবন্ধনে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল এখন প্রকৃতির এক অনন্য রূপ ধারণ করেছে। নগরজীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে যমুনার তীরের এই কাশবন হয়ে উঠছে মানুষের প্রশান্তির ঠিকানা।

আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


যমুনার চরে শরতের কাশফুল, প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে শরৎ আসে প্রকৃতির অপরূপ রূপের পসরা সাজিয়ে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কোমল বাতাস আর ঝলমলে রোদের সঙ্গে শরতের অন্যতম অনুষঙ্গ কাশফুল। এবার সেই সৌন্দর্য আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ধরা দিয়েছে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে।

নদীর বুক থেকে জেগে ওঠা বালুচরে ফুটে থাকা হাজারো কাশফুলে সৃষ্টি হয়েছে শুভ্রতার এক অপরূপ সাম্রাজ্য। যমুনার ঢেউ, বিস্তীর্ণ বালুচর আর বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশফুলের মেলবন্ধনে চরাঞ্চল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, চৌহালী, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার যমুনা-সংলগ্ন বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখন কাশফুলের রাজত্ব। নাটুয়ারপাড়া, খাসরাজবাড়ী, তেকানী, চরগিরিশ, মনসুরনগর, মাইজবাড়ী, মেছড়া, কাওয়াকোলা ও কালিয়াহরিপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চরজুড়ে চোখে পড়ছে কাশবনের বিস্তৃত শুভ্রতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন যমুনার চরে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউ দলবেঁধে নৌকায় চড়ে পৌঁছে যাচ্ছেন কাশবনের কাছে। কাশবনের ভেতরে ঢুকতেই বদলে যায় চারপাশের দৃশ্য। বাতাসে কাশফুলের দোলা, পায়ের নিচে নরম বালু আর দিগন্তজোড়া সাদা ফুলের সমারোহ মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্মৃতি ধরে রাখছেন।

বিকেলের দৃশ্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। যমুনার বুকে সূর্যের আলো যখন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসে, তখন কাশবনের শুভ্রতার সঙ্গে নদীর জলে গোধূলির রঙ মিশে তৈরি করে অন্যরকম আবহ। সূর্যাস্তের সেই মুহূর্ত উপভোগ করতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।

কাশফুল দেখতে আসা মানুষের আনাগোনায় স্থানীয় নৌকার মাঝিদের আয়-রোজগারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নৌকার মাঝি শরিফুল বলেন, শরৎ মৌসুমে দর্শনার্থী বাড়ায় নৌকা চলাচলও বেড়েছে। ঘাটে আসা মানুষ নৌকায় চড়ে চরের কাশবন ঘুরে দেখতে আগ্রহী হন। এতে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করার সুযোগ হচ্ছে। ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

সিরাজগঞ্জের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও প্রকৃতিপ্রেমীরা আসছেন যমুনার চরে। বগুড়ার শেরপুর থেকে ঘুরতে আসা আকাশ ও রুপা বলেন, শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে তাঁরা যমুনার কাশবন দেখতে এসেছেন। কাশবনের সাদা সৌন্দর্য ও নদীর পরিবেশ একসঙ্গে উপভোগ করে তাঁরা মুগ্ধ।

দর্শনার্থী স্বপ্না, আঁখি, সাদিয়া, অনিক ও মারুফ বলেন, যমুনার চরের কাশবন তাঁদের মুগ্ধ করেছে। দিগন্ত বিস্তৃত কাশফুলের সৌন্দর্য চোখের পাশাপাশি মনকেও প্রশান্ত করে।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিবছর শরৎকালে যমুনার চরাঞ্চলে কাশফুল ফুটলেও এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

কাজিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বকুল বলেন, কাজিপুরের মেঘাই যমুনা নদীর পাড় একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। শরতের শুভ্রতায় যমুনার চরে যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়, তা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে। পরিকল্পিতভাবে এ সৌন্দর্যকে কাজে লাগানো গেলে পর্যটকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দর্শনার্থীরা কাশফুল ও চরাঞ্চলের পরিবেশ নষ্ট না করে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করবেন এবং যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না। পাশাপাশি নিরাপদ নৌযাত্রা, দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে যমুনার চরাঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় একটি পর্যটনকেন্দ্র।

শরতের সাদা কাশফুল, যমুনার নীল জল আর বিস্তীর্ণ বালুচরের মেলবন্ধনে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল এখন প্রকৃতির এক অনন্য রূপ ধারণ করেছে। নগরজীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে যমুনার তীরের এই কাশবন হয়ে উঠছে মানুষের প্রশান্তির ঠিকানা।


খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. ছাইদুল ইসলাম (আবির)
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক : মো. একরামুল হক।
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত