ঢাকা    বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
খোলা বার্তা

পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে রাঙ্গুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ধস



পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে রাঙ্গুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ধস

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাপিতপুকুরিয়া এলাকায় শিলক খালের ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজের দক্ষিণ পাশের পিলার ধসে পড়েছে। শনিবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে বান্দরবান-রাঙ্গুনিয়া এবং রাঙ্গামাটি-বান্দরবান আন্তঃজেলা সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি পদুয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত রাঙ্গুনিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ব্রিজ ধসের ফলে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী খুঁটিগুলোও মাটির নিচ থেকে সরে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং স্থানীয় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

একই সময়ে নাপিতপুকুরিয়া-দুধপুকুরিয়া রাবার ড্যাম প্রকল্পের সংলগ্ন বেড়িবাঁধও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেঙে যায়। এতে আশপাশের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও আউশ ধানের ক্ষেত প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিলক খাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে খালের তলদেশ অস্বাভাবিকভাবে ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর হয়ে যায়। এতে খালের দুই তীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রবল স্রোতের চাপ সহ্য করতে না পেরে ব্রিজের পিলার ধসে পড়ে।

স্থানীয় যুবনেতা তারেক চৌধুরী বলেন, রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পাহাড়ি ঢলের স্রোত সরাসরি ব্রিজের ওপর আঘাত হানে। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে খালের পাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বর্তমানে ব্রিজের দক্ষিণ পাড়ের দোকানপাট ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শত শত পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের দাবি, অতীতে ব্যাপক বালু উত্তোলনের ক্ষতিকর প্রভাবই এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যদিও বর্তমান সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তবে আগের ক্ষয়ক্ষতি ইতোমধ্যে অপূরণীয় অবস্থায় পৌঁছেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো জরুরি সংস্কার বা ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ কিংবা ব্রিজটি সচল করার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি ব্রিজ পুনর্নির্মাণ, রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ শক্তিশালীকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং দ্রুত বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ এড়াতে নদী ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই ব্রিজ ধস শুধু একটি সেতু ধসের ঘটনা নয়; এটি রাঙ্গুনিয়া, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি অঞ্চলের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে রাঙ্গুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ধস

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাপিতপুকুরিয়া এলাকায় শিলক খালের ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজের দক্ষিণ পাশের পিলার ধসে পড়েছে। শনিবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে বান্দরবান-রাঙ্গুনিয়া এবং রাঙ্গামাটি-বান্দরবান আন্তঃজেলা সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি পদুয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত রাঙ্গুনিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ব্রিজ ধসের ফলে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী খুঁটিগুলোও মাটির নিচ থেকে সরে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং স্থানীয় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

একই সময়ে নাপিতপুকুরিয়া-দুধপুকুরিয়া রাবার ড্যাম প্রকল্পের সংলগ্ন বেড়িবাঁধও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেঙে যায়। এতে আশপাশের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও আউশ ধানের ক্ষেত প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিলক খাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে খালের তলদেশ অস্বাভাবিকভাবে ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর হয়ে যায়। এতে খালের দুই তীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রবল স্রোতের চাপ সহ্য করতে না পেরে ব্রিজের পিলার ধসে পড়ে।

স্থানীয় যুবনেতা তারেক চৌধুরী বলেন, রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পাহাড়ি ঢলের স্রোত সরাসরি ব্রিজের ওপর আঘাত হানে। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে খালের পাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বর্তমানে ব্রিজের দক্ষিণ পাড়ের দোকানপাট ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শত শত পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের দাবি, অতীতে ব্যাপক বালু উত্তোলনের ক্ষতিকর প্রভাবই এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যদিও বর্তমান সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তবে আগের ক্ষয়ক্ষতি ইতোমধ্যে অপূরণীয় অবস্থায় পৌঁছেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো জরুরি সংস্কার বা ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ কিংবা ব্রিজটি সচল করার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি ব্রিজ পুনর্নির্মাণ, রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ শক্তিশালীকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং দ্রুত বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ এড়াতে নদী ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই ব্রিজ ধস শুধু একটি সেতু ধসের ঘটনা নয়; এটি রাঙ্গুনিয়া, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি অঞ্চলের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. একরামুল হক
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
প্রধান নির্বাহী : সাইদুল ইসলাম আবির।
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত