ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’র ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ‘নিজেরা করি’র দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার, নারীর অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য কমানো ও সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।
ভূমিহীন নেতা মো. রহমত আলীর সভাপতিত্বে এবং মো. আবু হাসেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ‘নিজেরা করি’র রায়গঞ্জ অঞ্চল সমন্বয়ক মো. আছাবুর রহমান, সাইফুল ইসলাম আলাল, রেজাউল করিম খান, সাংবাদিক দীপক কুমার কর, ভূমিহীন নেত্রী খোদেজা বেগম, নারগিস বেগম, রিনা বেগম, রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সামাদ জামিলসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে ‘নিজেরা করি’র ৪৫ বছরের কর্মসাফল্য নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন সাংবাদিক দীপক কুমার কর। প্রবন্ধে দীর্ঘ সময় ধরে প্রান্তিক ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এর সঙ্গে অধিকার, অর্থনীতি, সামাজিক বৈষম্য ও জীবন-জীবিকার বিষয় জড়িত। এসব সমস্যা সমাধানে প্রান্তিক মানুষকে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও সংগঠিত হয়ে ভূমিকা রাখতে হবে।
ভূমিহীন নারী নেত্রীরা বলেন, একসময় অনেক নারী নিজেদের অধিকার ও সমস্যার কথা প্রকাশ্যে বলতে সংকোচ বোধ করতেন। সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁরা এখন নিজেদের কথা বলার পাশাপাশি অন্য নারীদেরও সচেতন করছেন। এতে পরিবার ও সমাজে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ফুলজোড় নদী রক্ষায় ‘জল জননীর আর্তনাদ’ নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। নাটকের মাধ্যমে নদী ও পরিবেশের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার সম্পর্ক এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সাধারণ মানুষের দায়িত্ব তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে পরিবেশ, কৃষি, জীবিকা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও জড়িত। তাই প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি বের করা হয়। এতে ‘নিজেরা করি’র নেতাকর্মী, ভূমিহীন নারী-পুরুষসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’র ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ‘নিজেরা করি’র দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার, নারীর অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য কমানো ও সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।
ভূমিহীন নেতা মো. রহমত আলীর সভাপতিত্বে এবং মো. আবু হাসেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ‘নিজেরা করি’র রায়গঞ্জ অঞ্চল সমন্বয়ক মো. আছাবুর রহমান, সাইফুল ইসলাম আলাল, রেজাউল করিম খান, সাংবাদিক দীপক কুমার কর, ভূমিহীন নেত্রী খোদেজা বেগম, নারগিস বেগম, রিনা বেগম, রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সামাদ জামিলসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে ‘নিজেরা করি’র ৪৫ বছরের কর্মসাফল্য নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন সাংবাদিক দীপক কুমার কর। প্রবন্ধে দীর্ঘ সময় ধরে প্রান্তিক ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এর সঙ্গে অধিকার, অর্থনীতি, সামাজিক বৈষম্য ও জীবন-জীবিকার বিষয় জড়িত। এসব সমস্যা সমাধানে প্রান্তিক মানুষকে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও সংগঠিত হয়ে ভূমিকা রাখতে হবে।
ভূমিহীন নারী নেত্রীরা বলেন, একসময় অনেক নারী নিজেদের অধিকার ও সমস্যার কথা প্রকাশ্যে বলতে সংকোচ বোধ করতেন। সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁরা এখন নিজেদের কথা বলার পাশাপাশি অন্য নারীদেরও সচেতন করছেন। এতে পরিবার ও সমাজে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ফুলজোড় নদী রক্ষায় ‘জল জননীর আর্তনাদ’ নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। নাটকের মাধ্যমে নদী ও পরিবেশের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার সম্পর্ক এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সাধারণ মানুষের দায়িত্ব তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে পরিবেশ, কৃষি, জীবিকা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও জড়িত। তাই প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি বের করা হয়। এতে ‘নিজেরা করি’র নেতাকর্মী, ভূমিহীন নারী-পুরুষসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন