সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে শাহ্ সুফি পিরে কামেল হযরত খাজা সাত পীর (রহ.)-এর মাজারের জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের দাবি, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে মাজার নির্মাণ করা হয়েছে। অন্য পক্ষের দাবি, মাজারটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। এ নিয়ে পরিবেশবাদী নেতা ফয়সাল বিশ্বাস সাত দিনের মধ্যে জমি দখলমুক্ত করার আলটিমেটাম দিয়েছেন। অন্যদিকে, মাজার ভাঙচুর ও অবমাননার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ সভা করেছে মাজার কমিটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের ধামাইনগর উত্তরপাড়া এলাকায় মাজার কমিটির আয়োজনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধটি ৪১২ শতক জমির মালিকানা নিয়ে।
জমির মালিকানা দাবিদার আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের বক্তব্য, জমির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র তাঁদের নামে রয়েছে এবং তাঁরা নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছেন। তাঁদের দাবি, উচ্চ আদালতের রায়ও তাঁদের পক্ষে রয়েছে। জমির একটি অংশ স্থানীয় ঈদগাহ মাঠের জন্যও দিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, মাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. বখতিয়ার চিশতিয়া বলেন, মাজারের জায়গায় নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়নি, বরং পুরোনো মাজার সংস্কার করা হয়েছে। মাজারের পক্ষেও আদালতের কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবেশবাদী নেতা ফয়সাল বিশ্বাস সাত দিনের মধ্যে জমিটি দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাজার ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিপরীতে, মাজার কমিটির নেতারা শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মাজারে ভাঙচুর ও অবমাননার অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেন। এ ঘটনায় ফয়সাল বিশ্বাস, আনোয়ার ও সাইদুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, মাজারটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বক্তব্য, আগে সেখানে মাজার ছিল না; সম্প্রতি ঘর নির্মাণ করে কবরের মতো স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় মাজার কমিটির সভাপতি মুজাম, সদস্য সোলাইমান শেখ, আল মামুন শেখ এবং উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. রুবেল সরকার উপস্থিত ছিলেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, সোমবার তাঁর কার্যালয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, জমির দলিল, খতিয়ান ও আদালতের আদেশ যাচাই করে বিরোধ নিষ্পত্তি করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো পক্ষেরই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে শাহ্ সুফি পিরে কামেল হযরত খাজা সাত পীর (রহ.)-এর মাজারের জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের দাবি, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে মাজার নির্মাণ করা হয়েছে। অন্য পক্ষের দাবি, মাজারটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। এ নিয়ে পরিবেশবাদী নেতা ফয়সাল বিশ্বাস সাত দিনের মধ্যে জমি দখলমুক্ত করার আলটিমেটাম দিয়েছেন। অন্যদিকে, মাজার ভাঙচুর ও অবমাননার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ সভা করেছে মাজার কমিটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের ধামাইনগর উত্তরপাড়া এলাকায় মাজার কমিটির আয়োজনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধটি ৪১২ শতক জমির মালিকানা নিয়ে।
জমির মালিকানা দাবিদার আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের বক্তব্য, জমির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র তাঁদের নামে রয়েছে এবং তাঁরা নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছেন। তাঁদের দাবি, উচ্চ আদালতের রায়ও তাঁদের পক্ষে রয়েছে। জমির একটি অংশ স্থানীয় ঈদগাহ মাঠের জন্যও দিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, মাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. বখতিয়ার চিশতিয়া বলেন, মাজারের জায়গায় নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়নি, বরং পুরোনো মাজার সংস্কার করা হয়েছে। মাজারের পক্ষেও আদালতের কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবেশবাদী নেতা ফয়সাল বিশ্বাস সাত দিনের মধ্যে জমিটি দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাজার ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিপরীতে, মাজার কমিটির নেতারা শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মাজারে ভাঙচুর ও অবমাননার অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেন। এ ঘটনায় ফয়সাল বিশ্বাস, আনোয়ার ও সাইদুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, মাজারটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বক্তব্য, আগে সেখানে মাজার ছিল না; সম্প্রতি ঘর নির্মাণ করে কবরের মতো স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় মাজার কমিটির সভাপতি মুজাম, সদস্য সোলাইমান শেখ, আল মামুন শেখ এবং উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. রুবেল সরকার উপস্থিত ছিলেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, সোমবার তাঁর কার্যালয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, জমির দলিল, খতিয়ান ও আদালতের আদেশ যাচাই করে বিরোধ নিষ্পত্তি করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো পক্ষেরই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।

আপনার মতামত লিখুন