ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এলাকায় এক বিদেশি পর্যটককে নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও ধারণের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে টুরিষ্ট পুলিশ জয়পুরহাট সদর থানার ছোট মাঝিপাড়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. আব্দুল মাবুত ওরফে ‘হিরো নানা’কে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৯ জুন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে ঘুরতে আসা এক চীনা পর্যটককে কেন্দ্র করে তিনি এবং সাথে থাকা নারী একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওর এক পর্যায়ে আব্দুল মাবুত ওরফে ‘হিরো নানা অশ্লীল কথাবার্তা বলতে দেখা যায়। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা ঘটনাটিকে বিদেশি পর্যটকের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নজরে এলে পাহাড়পুর টুরিস্ট পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। যাচাই-বাছাই শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাস্টডিয়ান মুহাম্মদ ফজলুল করিম জানান, “পাহাড়পুর ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রত্নস্থল। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি পর্যটককে হেনস্তার ভিডিওটি নজরে আসার পর টুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।”
অন্যদিকে নওগাঁ জেলা টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মাহবুব আলম পিপিএম জানান, “বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়াতে দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যাতে হিরো নানা নামে একজন ব্যক্তি বিদেশী পর্যটকের সাথে হাত ধরে কথা বলছে। এক পর্যায়ে সে কিছু অশ্লীল কথাবার্তা বলেছে। সোস্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাষ্টোডিয়ান এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে হিরো নানাকে আমরা গ্রেফতার করি। গ্রেফতারের পরে তাকে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বদলগাছী থানাতে হস্তান্তর করা হয়।”
এ ব্যাপারে বদলগাছী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী স্থানের মান-সম্মান তিনি ক্ষুন্ন করেছেন। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল টুরিস্ট পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে এমন তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, পাহাড়পুরের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রে কোনো পর্যটককে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা বা হয়রানিমূলক আচরণ দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এলাকায় এক বিদেশি পর্যটককে নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও ধারণের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে টুরিষ্ট পুলিশ জয়পুরহাট সদর থানার ছোট মাঝিপাড়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. আব্দুল মাবুত ওরফে ‘হিরো নানা’কে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৯ জুন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে ঘুরতে আসা এক চীনা পর্যটককে কেন্দ্র করে তিনি এবং সাথে থাকা নারী একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওর এক পর্যায়ে আব্দুল মাবুত ওরফে ‘হিরো নানা অশ্লীল কথাবার্তা বলতে দেখা যায়। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা ঘটনাটিকে বিদেশি পর্যটকের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নজরে এলে পাহাড়পুর টুরিস্ট পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। যাচাই-বাছাই শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাস্টডিয়ান মুহাম্মদ ফজলুল করিম জানান, “পাহাড়পুর ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রত্নস্থল। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি পর্যটককে হেনস্তার ভিডিওটি নজরে আসার পর টুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।”
অন্যদিকে নওগাঁ জেলা টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মাহবুব আলম পিপিএম জানান, “বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়াতে দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যাতে হিরো নানা নামে একজন ব্যক্তি বিদেশী পর্যটকের সাথে হাত ধরে কথা বলছে। এক পর্যায়ে সে কিছু অশ্লীল কথাবার্তা বলেছে। সোস্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাষ্টোডিয়ান এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে হিরো নানাকে আমরা গ্রেফতার করি। গ্রেফতারের পরে তাকে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বদলগাছী থানাতে হস্তান্তর করা হয়।”
এ ব্যাপারে বদলগাছী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী স্থানের মান-সম্মান তিনি ক্ষুন্ন করেছেন। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল টুরিস্ট পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে এমন তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, পাহাড়পুরের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রে কোনো পর্যটককে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা বা হয়রানিমূলক আচরণ দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন