ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
খোলা বার্তা

সর্বহারা থেকে আলোর পথে, রবিবারে আত্মসমর্পণ করছেন তিন জেলার ৭০ চরমপন্থি



সর্বহারা থেকে আলোর পথে, রবিবারে আত্মসমর্পণ করছেন তিন জেলার ৭০ চরমপন্থি
সর্বহারা থেকে আলোর পথে, রবিবারে আত্মসমর্পণ করছেন তিন জেলার ৭০ চরমপন্থি

একসময় চরমপন্থিদের দাপটে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী। হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধে অস্থির ছিল এসব এলাকার জনজীবন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণ কর্মসূচির ফলে পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার তিন জেলার আরও ৭০ জন চরমপন্থি সদস্য অস্ত্রের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার (১ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করবেন।

এসআরবি-১২-এর একটি সূত্র শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর ৭০ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করবেন। আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসআরবি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ। অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন।

তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় একসময় মার্কস-লেনিন ও মাওবাদী আদর্শের নামে প্রায় ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় ছিল। পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল (লাল পতাকা), পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (এমবিআরএম) ও পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (জনযুদ্ধ) ছিল উল্লেখযোগ্য সংগঠন।

১৯৬৮ সাল থেকে এসব সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত হতে থাকে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তাদের তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। সশস্ত্র কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাত-হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে সংগঠনগুলো একাধিক উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগে আত্মসমর্পণ কর্মসূচিও নেওয়া হয়। ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন।

এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন ৫৯৬ জন চরমপন্থি। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র‌্যাব-১২ কার্যালয়ে সাত জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর আরও ৭০ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে যাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


সর্বহারা থেকে আলোর পথে, রবিবারে আত্মসমর্পণ করছেন তিন জেলার ৭০ চরমপন্থি

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একসময় চরমপন্থিদের দাপটে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী। হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধে অস্থির ছিল এসব এলাকার জনজীবন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণ কর্মসূচির ফলে পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার তিন জেলার আরও ৭০ জন চরমপন্থি সদস্য অস্ত্রের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার (১ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করবেন।

এসআরবি-১২-এর একটি সূত্র শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর ৭০ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করবেন। আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসআরবি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ। অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন।

তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় একসময় মার্কস-লেনিন ও মাওবাদী আদর্শের নামে প্রায় ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় ছিল। পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল (লাল পতাকা), পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (এমবিআরএম) ও পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (জনযুদ্ধ) ছিল উল্লেখযোগ্য সংগঠন।

১৯৬৮ সাল থেকে এসব সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত হতে থাকে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তাদের তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। সশস্ত্র কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাত-হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে সংগঠনগুলো একাধিক উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগে আত্মসমর্পণ কর্মসূচিও নেওয়া হয়। ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন।

এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন ৫৯৬ জন চরমপন্থি। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র‌্যাব-১২ কার্যালয়ে সাত জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর আরও ৭০ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে যাচ্ছেন।


খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. ছাইদুল ইসলাম (আবির)
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক : মো. একরামুল হক।
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত