ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
খোলা বার্তা

সলঙ্গায় ৫ গ্রামে পাঁচ বছর ধরে জলাবদ্ধতা



সলঙ্গায় ৫ গ্রামে পাঁচ বছর ধরে জলাবদ্ধতা
সলঙ্গায় ৫ গ্রামে পাঁচ বছর ধরে জলাবদ্ধতা


সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সরকারের আমলের অবৈধভাবে ব্রিজ এবং কালভার্টের মুখ বন্ধ করে অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করায় বছরের পর বছর স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন ৫ গ্রামের মানুষ।

তাই চলতি বর্ষা মৌসুমে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। পানি বের হওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী এক জলাবদ্ধতা। ফলে প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমি রয়েছে অনাবাদি এবং তলিয়ে গেছে খেলার মাঠসহ গ্রামীণ সড়ক । 

জানা গেছে, সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আগরপুর,ক্ষুদ্র সিমলা, কালিকাপুর, খেইসর ও জালশুকা এই ৫ টি গ্রামের চিত্র এখন প্রায় একই রকম। মসজিদের রাস্তা, বসতবাড়ি আঙ্গিনা , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ থেকে শুরু করে চিরচেনা গ্রামীণ পথঘাট সবই পানির নিচে তলিয়ে আছে। 

পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যাওয়া। থমকে গেছে দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হাঁস-মুরগি আর গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। আর এই বদ্ধ নোংরা পানিতে পথচলার ফলে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগ। সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে স্থানীয় কৃষি খাতে। একসময় যে পাঁচ হাজার বিঘা জমিতে সোনার মতো ধান ফলত, এখন তা পরিত্যক্ত জমি। ওই জমিতে বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ বোরো ধান উঠত। সেই বিস্তীর্ণ প্রান্তর আজ টানা পাঁচ বছর ধরে পানির নিচে পড়ে আছে। কৃষকরা আজ পুরোপুরি দিশাহারা। অনেকের মাটির দেয়ালের বাড়ি হওয়ায়, স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে তা ভেঙে পড়েছে, আবার কারো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। 

স্থানীয় বেশ কয়েকজন কৃষক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমাদের বিঘাকে বিঘা জমি চার বছর ধরে পানির নিচে। প্রতি বছর প্রায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের মতো শতাধিক কৃষকের একই অবস্থা। 

পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দ্রুত না হলে ভিটেমাটি বেচে নিঃস্ব হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার মূলে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েক জন ব্যক্তি যারা সরকারি খালের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ব্রিজের মুখ বন্ধ করে পুকুর খনন করা ও পাশেই আরেকটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত জমি পুকুর দেওয়ায় অকেজো হয়ে পড়েছে পুরো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা।

আগরপুর গ্রামের আদাচড়ি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কালভার্টটির মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, পুরো ৪ গ্রামের পানি আটকে তৈরি হয়েছে এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা । বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও কৃষি বিভাগসহ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া মেলেনি কোনো স্থায়ী কোনো সমাধান।

 রামকৃষ্ণপুর এর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওজেস আলী নায়েব কালভার্ট বন্ধ হওয়া এবং পানিপ্রবাহ আটকে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থায়ী জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি। আশা করছি, অতি দ্রুত একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হানুল ইসলাম বলেন অতিদ্রুত এই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


সলঙ্গায় ৫ গ্রামে পাঁচ বছর ধরে জলাবদ্ধতা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image


সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সরকারের আমলের অবৈধভাবে ব্রিজ এবং কালভার্টের মুখ বন্ধ করে অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করায় বছরের পর বছর স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন ৫ গ্রামের মানুষ।

তাই চলতি বর্ষা মৌসুমে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। পানি বের হওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী এক জলাবদ্ধতা। ফলে প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমি রয়েছে অনাবাদি এবং তলিয়ে গেছে খেলার মাঠসহ গ্রামীণ সড়ক । 

জানা গেছে, সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আগরপুর,ক্ষুদ্র সিমলা, কালিকাপুর, খেইসর ও জালশুকা এই ৫ টি গ্রামের চিত্র এখন প্রায় একই রকম। মসজিদের রাস্তা, বসতবাড়ি আঙ্গিনা , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ থেকে শুরু করে চিরচেনা গ্রামীণ পথঘাট সবই পানির নিচে তলিয়ে আছে। 

পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যাওয়া। থমকে গেছে দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হাঁস-মুরগি আর গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। আর এই বদ্ধ নোংরা পানিতে পথচলার ফলে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগ। সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে স্থানীয় কৃষি খাতে। একসময় যে পাঁচ হাজার বিঘা জমিতে সোনার মতো ধান ফলত, এখন তা পরিত্যক্ত জমি। ওই জমিতে বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ বোরো ধান উঠত। সেই বিস্তীর্ণ প্রান্তর আজ টানা পাঁচ বছর ধরে পানির নিচে পড়ে আছে। কৃষকরা আজ পুরোপুরি দিশাহারা। অনেকের মাটির দেয়ালের বাড়ি হওয়ায়, স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে তা ভেঙে পড়েছে, আবার কারো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। 

স্থানীয় বেশ কয়েকজন কৃষক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমাদের বিঘাকে বিঘা জমি চার বছর ধরে পানির নিচে। প্রতি বছর প্রায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের মতো শতাধিক কৃষকের একই অবস্থা। 

পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দ্রুত না হলে ভিটেমাটি বেচে নিঃস্ব হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার মূলে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েক জন ব্যক্তি যারা সরকারি খালের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ব্রিজের মুখ বন্ধ করে পুকুর খনন করা ও পাশেই আরেকটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত জমি পুকুর দেওয়ায় অকেজো হয়ে পড়েছে পুরো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা।

আগরপুর গ্রামের আদাচড়ি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কালভার্টটির মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, পুরো ৪ গ্রামের পানি আটকে তৈরি হয়েছে এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা । বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও কৃষি বিভাগসহ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া মেলেনি কোনো স্থায়ী কোনো সমাধান।

 রামকৃষ্ণপুর এর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওজেস আলী নায়েব কালভার্ট বন্ধ হওয়া এবং পানিপ্রবাহ আটকে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থায়ী জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি। আশা করছি, অতি দ্রুত একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হানুল ইসলাম বলেন অতিদ্রুত এই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. ছাইদুল ইসলাম (আবির)
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক : মো. একরামুল হক।
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত