ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
খোলা বার্তা

রায়গঞ্জে সরকারি খাসজমিতে মাটি ফেলল নাহার অ্যাগ্রো, বিপাকে এক মুক্তিযোদ্ধা



রায়গঞ্জে সরকারি খাসজমিতে মাটি ফেলল নাহার অ্যাগ্রো, বিপাকে এক মুক্তিযোদ্ধা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সরকারি খাসজমি দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু ও তাঁর অধীনস্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমিতে মাটি ভরাট বন্ধ ও চাষাবাদের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ৮০ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার।

গত ২৬ অক্টোবর দেওয়া ওই আবেদনে আমজাদ হোসেন উল্লেখ করেন, সলঙ্গা থানার দাদপুর মৌজায় জে.এল. নম্বর ১৬৩, দাগ নম্বর ৫৪৩/১৩২১-এর ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৬৫ শতক জমি তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত (লিজ) নিয়েছেন। পরে চার লেনের সড়ক নির্মাণের জন্য ওই জমির ২০ শতক অধিগ্রহণ করে সরকার। এ জন্য তাঁকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছিলেন।

আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু ও তাঁর অধীনস্ত কর্মচারীরা প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে জোরপূর্বক মাটি ভরাট শুরু করেছেন। এতে তাঁর চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। ফসলি জমির ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মাটি ভরাটে বাধা দিতে গেলে তাঁকে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ অবস্থায় সরেজমিন তদন্ত করে মাটি ভরাট বন্ধ, জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া এবং চাষাবাদের সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউএনওর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ওই মুক্তিযোদ্ধা।

অভিযোগের বিষয়ে নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু বলেন, ‘আমাদের চলাচলের জায়গা প্রয়োজন। তাই সরকারি জায়গায় মাটি ফেলেছি, শুধু ব্যবহার করার জন্য। আপনার বাড়ির সামনে যদি সরকারি জায়গা থাকে, আপনিও তো চলাচলের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। আমরা কাউকে জোরজবরদস্তি করিনি।’

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ‘কেউ যদি জমি লিজ নিয়ে থাকে, তবে সে জমি ভরাট করতে পারবে। তবে লিজ না নিয়ে সরকারি জমি ভরাট বা অন্য কিছু করার সুযোগ নেই।’

এ বিষয়ে দুই পক্ষকে ডেকে কথা বলেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘আমি দুই পক্ষকে ডেকে নিয়েছিলাম। তাঁদের মধ্যে আপস হয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’

তবে অভিযোগে উল্লিখিত জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি হলে সেটি নিয়ে দুই পক্ষের আপসের আইনগত ভিত্তি কী, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি খাসজমির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অবস্থানও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


রায়গঞ্জে সরকারি খাসজমিতে মাটি ফেলল নাহার অ্যাগ্রো, বিপাকে এক মুক্তিযোদ্ধা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সরকারি খাসজমি দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু ও তাঁর অধীনস্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমিতে মাটি ভরাট বন্ধ ও চাষাবাদের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ৮০ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার।

গত ২৬ অক্টোবর দেওয়া ওই আবেদনে আমজাদ হোসেন উল্লেখ করেন, সলঙ্গা থানার দাদপুর মৌজায় জে.এল. নম্বর ১৬৩, দাগ নম্বর ৫৪৩/১৩২১-এর ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৬৫ শতক জমি তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত (লিজ) নিয়েছেন। পরে চার লেনের সড়ক নির্মাণের জন্য ওই জমির ২০ শতক অধিগ্রহণ করে সরকার। এ জন্য তাঁকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছিলেন।

আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু ও তাঁর অধীনস্ত কর্মচারীরা প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে জোরপূর্বক মাটি ভরাট শুরু করেছেন। এতে তাঁর চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। ফসলি জমির ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মাটি ভরাটে বাধা দিতে গেলে তাঁকে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ অবস্থায় সরেজমিন তদন্ত করে মাটি ভরাট বন্ধ, জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া এবং চাষাবাদের সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউএনওর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ওই মুক্তিযোদ্ধা।

অভিযোগের বিষয়ে নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু বলেন, ‘আমাদের চলাচলের জায়গা প্রয়োজন। তাই সরকারি জায়গায় মাটি ফেলেছি, শুধু ব্যবহার করার জন্য। আপনার বাড়ির সামনে যদি সরকারি জায়গা থাকে, আপনিও তো চলাচলের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। আমরা কাউকে জোরজবরদস্তি করিনি।’

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ‘কেউ যদি জমি লিজ নিয়ে থাকে, তবে সে জমি ভরাট করতে পারবে। তবে লিজ না নিয়ে সরকারি জমি ভরাট বা অন্য কিছু করার সুযোগ নেই।’

এ বিষয়ে দুই পক্ষকে ডেকে কথা বলেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘আমি দুই পক্ষকে ডেকে নিয়েছিলাম। তাঁদের মধ্যে আপস হয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’

তবে অভিযোগে উল্লিখিত জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি হলে সেটি নিয়ে দুই পক্ষের আপসের আইনগত ভিত্তি কী, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি খাসজমির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অবস্থানও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।


খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. ছাইদুল ইসলাম (আবির)
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক : মো. একরামুল হক।
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত