বর্ষায় ডুবে থাকে মাঠের পর মাঠ। শুকনোয় দেখা দেয় পানির সংকট।একারনে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার উত্তরসাহাপুর বিলে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে ফলানো যায় তিন ফসল।
স্থানীয় কৃষকদের দাবী, বিলের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া নালাটি সংস্কার করে একটি জলকপাট (স্লইসগেট) নির্মান করা হলে সেখানে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব। পাশাপাশি শুকনো মওসুমে নালায় পানি ধরে রেখে সেচ সংকট নিরসন করে কম খরচে আবাদ করতে পারবে কৃষক। এতে ফলনও বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ সরকার বলেন, চলনবিলের উপকণ্ঠে জলাগাড়ি বিলটি অবস্থিত। বিলের মাঝ দিয়ে নির্মিত একটি সড়ক উপজেলার মশিন্দা ও খুবজীপুর ইউনিয়নকে যুক্ত করেছে।
বিলটির দক্ষিন পাশ ঘেঁষে উত্তরসাহাপুর গ্রাম ঘেঁষে একটি ব্রীজ রয়েছে। ব্রীজের নিচ দিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীঘ একটি নালা বয়ে গেছে। এ নালা দিয়ে চলনবিলে পানি ঢুকে পড়ে এবং নেমে যায়।
সমস্যা হচ্ছে, বর্ষার শেষে পানি নামে ধীরগতিতে। তখন জলাবদ্ধতার কারনে রসুন ও ছিটিয়ে বোনা রসুনের আবাদ বাধাগ্রস্থ হয়ে থাকে। অনেক সময় ইরিবোরো আবাদ বিলম্বিত হয়। বিলম্বিত চাষাবাদের কারনে রবিশস্য আবাদ নিয়ে শঙ্কায় থাকেন এলাকার কৃষক।
কারন মাঠে ভুট্রা, পাট ও রোপা আমনের চাষাবাদ হলেও অকাল বন্যার কারনে পাশের সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার কাটাবাড়ি “কাটানদী” দিয়ে নালায় পানি ঢুকে মাঠের ফসল তলিয়ে যায়। তখন বির্স্তীন এলাকার খেত খামার পানিতে তলিয়ে যায়। তখন তিন ফসল ফলানো সম্ভব হয়ে ওঠেনা। এতে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে এলাকার কৃষক।
স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, ৩৮ বছর আগে বিলের মাঝ দিয়ে মাটির রাস্তা ও একটি ব্রীজ নির্মান করা হয়েছিল। বছর দশেক আগে সেই সড়কটি পাকা হলেও ব্রীজটির ভঙ্গুড়দশা। সাধারন যাজবাহন চলাচল করলেও কাঁপতে থাকে।
কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থে ব্রীজটি ভেঙে সেখানে একটি জলকপাট নির্মানসহ নালাটি পুনঃখনন করে গতি ফিরালে উত্তরসাহাপুর বিলে তিন ফসল ফলানো সহজ হবে। একই সাথে নালায় সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে কৃষি আবাদ সহজীকরন সম্ভব হবে।
কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, উত্তরসাহাপুর বিলে ২০ বিঘা জমি রয়েছে তাঁর। নালাটি ভরাট হয়েপড়া এবং জলকপাট না থাকার কারনে আগাম বন্যার পানি ঢুকে পড়ে খেতের ফসল তলিয়ে যায়।
আরেক প্রান্তিক চাষি মনিরুজ্জামান ও জাহিদ হোসেন জানান, বর্গায় ২-৩বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে থাকেন তাঁরা। সময়মত পানি নামতে না পারায় রসু ও ছিটিয়ে বোনা শরিষা বিলম্বিত হয়। ভূর্গস্থ পানির ওপর নিরভর করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
কষ্টে রবিশস্য আবাদ করা গেলেও ভুট্রা পাট ও রোপা আমন চাষ করে শঙ্কায় থাকতে হয়। কারন অতি বৃষ্টি ও আগাম বন্যার পানি ঢুকে খেতের ফসল তলিয়ে যায়। এতে করে এলাকার ৭ থেকে ৮ হাজার হেক্টর জমির কৃষি আবাদ নিয়ে ভয় ও শঙ্কায় থাকের এলাকার কৃষক।
উপজেলা কৃষি কমকতা একেএম রাফিউল আসলাম কৃষকদের অভিযোগের সাথে সহমত জানিয়ে বলেন, “ এলাকার কৃষকরা সম্মিলিতভাবে তাঁর মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কমকতার কাছে লিখিত আবেদন জানালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন তিনি।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
বর্ষায় ডুবে থাকে মাঠের পর মাঠ। শুকনোয় দেখা দেয় পানির সংকট।একারনে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার উত্তরসাহাপুর বিলে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে ফলানো যায় তিন ফসল।
স্থানীয় কৃষকদের দাবী, বিলের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া নালাটি সংস্কার করে একটি জলকপাট (স্লইসগেট) নির্মান করা হলে সেখানে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব। পাশাপাশি শুকনো মওসুমে নালায় পানি ধরে রেখে সেচ সংকট নিরসন করে কম খরচে আবাদ করতে পারবে কৃষক। এতে ফলনও বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ সরকার বলেন, চলনবিলের উপকণ্ঠে জলাগাড়ি বিলটি অবস্থিত। বিলের মাঝ দিয়ে নির্মিত একটি সড়ক উপজেলার মশিন্দা ও খুবজীপুর ইউনিয়নকে যুক্ত করেছে।
বিলটির দক্ষিন পাশ ঘেঁষে উত্তরসাহাপুর গ্রাম ঘেঁষে একটি ব্রীজ রয়েছে। ব্রীজের নিচ দিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীঘ একটি নালা বয়ে গেছে। এ নালা দিয়ে চলনবিলে পানি ঢুকে পড়ে এবং নেমে যায়।
সমস্যা হচ্ছে, বর্ষার শেষে পানি নামে ধীরগতিতে। তখন জলাবদ্ধতার কারনে রসুন ও ছিটিয়ে বোনা রসুনের আবাদ বাধাগ্রস্থ হয়ে থাকে। অনেক সময় ইরিবোরো আবাদ বিলম্বিত হয়। বিলম্বিত চাষাবাদের কারনে রবিশস্য আবাদ নিয়ে শঙ্কায় থাকেন এলাকার কৃষক।
কারন মাঠে ভুট্রা, পাট ও রোপা আমনের চাষাবাদ হলেও অকাল বন্যার কারনে পাশের সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার কাটাবাড়ি “কাটানদী” দিয়ে নালায় পানি ঢুকে মাঠের ফসল তলিয়ে যায়। তখন বির্স্তীন এলাকার খেত খামার পানিতে তলিয়ে যায়। তখন তিন ফসল ফলানো সম্ভব হয়ে ওঠেনা। এতে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে এলাকার কৃষক।
স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, ৩৮ বছর আগে বিলের মাঝ দিয়ে মাটির রাস্তা ও একটি ব্রীজ নির্মান করা হয়েছিল। বছর দশেক আগে সেই সড়কটি পাকা হলেও ব্রীজটির ভঙ্গুড়দশা। সাধারন যাজবাহন চলাচল করলেও কাঁপতে থাকে।
কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থে ব্রীজটি ভেঙে সেখানে একটি জলকপাট নির্মানসহ নালাটি পুনঃখনন করে গতি ফিরালে উত্তরসাহাপুর বিলে তিন ফসল ফলানো সহজ হবে। একই সাথে নালায় সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে কৃষি আবাদ সহজীকরন সম্ভব হবে।
কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, উত্তরসাহাপুর বিলে ২০ বিঘা জমি রয়েছে তাঁর। নালাটি ভরাট হয়েপড়া এবং জলকপাট না থাকার কারনে আগাম বন্যার পানি ঢুকে পড়ে খেতের ফসল তলিয়ে যায়।
আরেক প্রান্তিক চাষি মনিরুজ্জামান ও জাহিদ হোসেন জানান, বর্গায় ২-৩বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে থাকেন তাঁরা। সময়মত পানি নামতে না পারায় রসু ও ছিটিয়ে বোনা শরিষা বিলম্বিত হয়। ভূর্গস্থ পানির ওপর নিরভর করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
কষ্টে রবিশস্য আবাদ করা গেলেও ভুট্রা পাট ও রোপা আমন চাষ করে শঙ্কায় থাকতে হয়। কারন অতি বৃষ্টি ও আগাম বন্যার পানি ঢুকে খেতের ফসল তলিয়ে যায়। এতে করে এলাকার ৭ থেকে ৮ হাজার হেক্টর জমির কৃষি আবাদ নিয়ে ভয় ও শঙ্কায় থাকের এলাকার কৃষক।
উপজেলা কৃষি কমকতা একেএম রাফিউল আসলাম কৃষকদের অভিযোগের সাথে সহমত জানিয়ে বলেন, “ এলাকার কৃষকরা সম্মিলিতভাবে তাঁর মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কমকতার কাছে লিখিত আবেদন জানালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন