সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কালিঞ্জা এলাকার বাসিন্দা তুফান। ষাটোর্ধ্ব বয়সে এসে স্ত্রীকে নিয়ে জীর্ণ একটি কুঁড়েঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সংসারে তাঁরা দুজনই। বয়সের ভারে তুফান যেমন এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না, তাঁর স্ত্রীও কোনো কাজ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন।
তুফান কখনো পেশাগতভাবে গ্রাম পুলিশ ছিলেন না। তবে নিজের টাকায় গ্রাম পুলিশের পোশাক তৈরি করে স্বেচ্ছায় বিভিন্ন খেলাধুলা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও স্থানীয় আয়োজনে ছুটে বেড়াতেন। মানুষের আনন্দ-অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতেন, শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করতেন। কেউ খুশি হয়ে কিছু অর্থ দিলে সেটিই ছিল তাঁর সামান্য আয়।
সেই সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হতো। সঞ্চয় করার সুযোগ হয়নি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন নিয়মিত কাজ করে আয় করার সামর্থ্য নেই। সন্তানও নেই। ফলে স্ত্রীকে নিয়েই কোনো রকমে দিন পার করছেন তিনি।
তাঁদের থাকার ঘরটির অবস্থাও করুণ। জীর্ণ ঘরের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। ভালো পোশাক কিংবা পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করাও তাঁদের জন্য কঠিন। ঈদ কিংবা উৎসব এলেও অভাবের কারণে আনন্দের ছোঁয়া তেমন একটা লাগে না তাঁদের জীবনে।
একসময় নিজের সামর্থ্য দিয়ে অন্যের আনন্দের আয়োজনে স্বেচ্ছায় ছুটে বেড়ানো তুফান এখন নিজেই অসহায়। নীরবে কষ্টে দিন কাটালেও তাঁর দুর্দশার কথা অনেকেরই জানা নেই। তাই প্রয়োজনের সময়ও তেমন কোনো মানবিক সহায়তা পাননি তিনি।
তুফানের চাওয়া খুব বেশি নয়। জীবনের শেষ দিনগুলোতে স্ত্রীকে নিয়ে যেন দুবেলা পেট ভরে খেতে পারেন এবং বৃষ্টির রাতে যেন ঘরের ভেতর পানি না পড়ে—এটুকুই তাঁর প্রত্যাশা।
অসহায় এই দম্পতির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খাদ্যসামগ্রী, পোশাক, ঘর মেরামত কিংবা আর্থিক সহায়তা পেলে তাঁদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
তুফান ও তাঁর স্ত্রীর অসহায় জীবনের কথা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবেদনটি শেয়ার করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একটি শেয়ার হয়তো কোনো মানবিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নজরে এনে দিতে পারে তাঁদের জীবনে সহায়তার হাত।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কালিঞ্জা এলাকার বাসিন্দা তুফান। ষাটোর্ধ্ব বয়সে এসে স্ত্রীকে নিয়ে জীর্ণ একটি কুঁড়েঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সংসারে তাঁরা দুজনই। বয়সের ভারে তুফান যেমন এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না, তাঁর স্ত্রীও কোনো কাজ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন।
তুফান কখনো পেশাগতভাবে গ্রাম পুলিশ ছিলেন না। তবে নিজের টাকায় গ্রাম পুলিশের পোশাক তৈরি করে স্বেচ্ছায় বিভিন্ন খেলাধুলা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও স্থানীয় আয়োজনে ছুটে বেড়াতেন। মানুষের আনন্দ-অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতেন, শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করতেন। কেউ খুশি হয়ে কিছু অর্থ দিলে সেটিই ছিল তাঁর সামান্য আয়।
সেই সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হতো। সঞ্চয় করার সুযোগ হয়নি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন নিয়মিত কাজ করে আয় করার সামর্থ্য নেই। সন্তানও নেই। ফলে স্ত্রীকে নিয়েই কোনো রকমে দিন পার করছেন তিনি।
তাঁদের থাকার ঘরটির অবস্থাও করুণ। জীর্ণ ঘরের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। ভালো পোশাক কিংবা পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করাও তাঁদের জন্য কঠিন। ঈদ কিংবা উৎসব এলেও অভাবের কারণে আনন্দের ছোঁয়া তেমন একটা লাগে না তাঁদের জীবনে।
একসময় নিজের সামর্থ্য দিয়ে অন্যের আনন্দের আয়োজনে স্বেচ্ছায় ছুটে বেড়ানো তুফান এখন নিজেই অসহায়। নীরবে কষ্টে দিন কাটালেও তাঁর দুর্দশার কথা অনেকেরই জানা নেই। তাই প্রয়োজনের সময়ও তেমন কোনো মানবিক সহায়তা পাননি তিনি।
তুফানের চাওয়া খুব বেশি নয়। জীবনের শেষ দিনগুলোতে স্ত্রীকে নিয়ে যেন দুবেলা পেট ভরে খেতে পারেন এবং বৃষ্টির রাতে যেন ঘরের ভেতর পানি না পড়ে—এটুকুই তাঁর প্রত্যাশা।
অসহায় এই দম্পতির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খাদ্যসামগ্রী, পোশাক, ঘর মেরামত কিংবা আর্থিক সহায়তা পেলে তাঁদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
তুফান ও তাঁর স্ত্রীর অসহায় জীবনের কথা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবেদনটি শেয়ার করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একটি শেয়ার হয়তো কোনো মানবিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নজরে এনে দিতে পারে তাঁদের জীবনে সহায়তার হাত।

আপনার মতামত লিখুন