ধান পাকার সময় পাখির উপদ্রব, পোকামাকড়ের আক্রমণ আর গবাদিপশুর বিচরণ—কৃষকের জন্য এসবই বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ। তবে সেই দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই পেতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের কৃষক মো. দুলাল শেখ। পাকা ধান রক্ষায় তিনি পুরো ধানখেত নেটজাল দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন।
উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষীকোলা এলাকায় দেখা গেছে এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্য। মাঠের অন্য জমিগুলোতে যখন ধানের শীষ বাতাসে দুলছে, তখন দুলাল শেখের ২০ শতক জমির ধান সোনালি রঙ ধারণ করেছে। আর পাকা ধানকে ঘিরে রাখা হয়েছে নেটের নিরাপদ বেষ্টনীতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জমির চারপাশের পাশাপাশি ওপরের অংশও নেটজাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। নিচের অংশও রাখা হয়েছে সুরক্ষিত। ফলে পাখি বা গবাদিপশুর পক্ষে সহজে ধানখেতে প্রবেশের সুযোগ নেই।
কৃষক মো. দুলাল শেখ বলেন, “এবারই প্রথম ‘আব্দুল গুটি’ জাতের আগাম ধান চাষ করেছি। ২০ শতক জমিতে ধান ভালো হয়েছে। কিন্তু ধান পাকার সময় পাখির উপদ্রব বেড়ে যায়। পোকামাকড়ের আক্রমণও থাকে। আবার গবাদিপশু ঢুকে পড়লে ফসল নষ্ট হতে পারে। তাই নেটজাল দিয়ে পুরো জমি ঘিরে দিয়েছি।”
তিনি বলেন, “ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত কৃষকের চিন্তা থাকে। এতদিনের পরিশ্রম যেন শেষ সময়ে নষ্ট না হয়, সেজন্যই বাড়তি খরচ করে এই ব্যবস্থা করেছি। ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে পারলেই আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সাধারণত পাখি তাড়াতে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের কৌশল ব্যবহার করেন। তবে পুরো ধানখেত নেটজাল দিয়ে ঘিরে ফসল রক্ষার এমন উদ্যোগ এলাকায় ব্যতিক্রম। দুলাল শেখের এই উদ্যোগ দেখতে আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “ফসলের শেষ পর্যায়ে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে ধান রক্ষায় কৃষক দুলাল শেখের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। নেটজাল ব্যবহার করে ফসল সুরক্ষার এ ধরনের পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে ফসলের ক্ষতি কমানো সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য কৃষকরাও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষকের উৎপাদিত ফসল নিরাপদে ঘরে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফসল রক্ষায় কৃষকের এমন সচেতন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি।”
ধান ফলানোর পর তা নিরাপদে ঘরে তোলাই কৃষকের শেষ সাফল্য। সেই সাফল্য নিশ্চিত করতেই নিজের ২০ শতক ধানখেত নেটজালে ঢেকে দিয়েছেন দুলাল শেখ। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও তৈরি করেছে কৌতূহল ও আগ্রহ।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
ধান পাকার সময় পাখির উপদ্রব, পোকামাকড়ের আক্রমণ আর গবাদিপশুর বিচরণ—কৃষকের জন্য এসবই বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ। তবে সেই দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই পেতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের কৃষক মো. দুলাল শেখ। পাকা ধান রক্ষায় তিনি পুরো ধানখেত নেটজাল দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন।
উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষীকোলা এলাকায় দেখা গেছে এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্য। মাঠের অন্য জমিগুলোতে যখন ধানের শীষ বাতাসে দুলছে, তখন দুলাল শেখের ২০ শতক জমির ধান সোনালি রঙ ধারণ করেছে। আর পাকা ধানকে ঘিরে রাখা হয়েছে নেটের নিরাপদ বেষ্টনীতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জমির চারপাশের পাশাপাশি ওপরের অংশও নেটজাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। নিচের অংশও রাখা হয়েছে সুরক্ষিত। ফলে পাখি বা গবাদিপশুর পক্ষে সহজে ধানখেতে প্রবেশের সুযোগ নেই।
কৃষক মো. দুলাল শেখ বলেন, “এবারই প্রথম ‘আব্দুল গুটি’ জাতের আগাম ধান চাষ করেছি। ২০ শতক জমিতে ধান ভালো হয়েছে। কিন্তু ধান পাকার সময় পাখির উপদ্রব বেড়ে যায়। পোকামাকড়ের আক্রমণও থাকে। আবার গবাদিপশু ঢুকে পড়লে ফসল নষ্ট হতে পারে। তাই নেটজাল দিয়ে পুরো জমি ঘিরে দিয়েছি।”
তিনি বলেন, “ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত কৃষকের চিন্তা থাকে। এতদিনের পরিশ্রম যেন শেষ সময়ে নষ্ট না হয়, সেজন্যই বাড়তি খরচ করে এই ব্যবস্থা করেছি। ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে পারলেই আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সাধারণত পাখি তাড়াতে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের কৌশল ব্যবহার করেন। তবে পুরো ধানখেত নেটজাল দিয়ে ঘিরে ফসল রক্ষার এমন উদ্যোগ এলাকায় ব্যতিক্রম। দুলাল শেখের এই উদ্যোগ দেখতে আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “ফসলের শেষ পর্যায়ে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে ধান রক্ষায় কৃষক দুলাল শেখের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। নেটজাল ব্যবহার করে ফসল সুরক্ষার এ ধরনের পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে ফসলের ক্ষতি কমানো সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য কৃষকরাও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষকের উৎপাদিত ফসল নিরাপদে ঘরে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফসল রক্ষায় কৃষকের এমন সচেতন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি।”
ধান ফলানোর পর তা নিরাপদে ঘরে তোলাই কৃষকের শেষ সাফল্য। সেই সাফল্য নিশ্চিত করতেই নিজের ২০ শতক ধানখেত নেটজালে ঢেকে দিয়েছেন দুলাল শেখ। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও তৈরি করেছে কৌতূহল ও আগ্রহ।

আপনার মতামত লিখুন