সিরাজগঞ্জে মায়ের হাত ছুটে সড়ক পার হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল আয়শা রশিদ বিদ্যা নিকেতনের প্লে-গ্রুপের ছোট্ট শিক্ষার্থী হানিফা খাতুন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একটি পরিবারের হাসি-আনন্দ যেন পরিণত হয়েছে কান্না আর শোকের মাতমে। হানিফার মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন,সহপাঠী,শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহত হানিফা খাতুন আলোকদিয়া গ্রামের মো:হানিফের মেয়ে। প্রতিদিনের মতো গত পরশুদিন সকাল ৮টার দিকে মায়ের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ির সামনে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ছোট্ট হানিফা। স্কুলে যাওয়ার আনন্দে হয়তো তার ছোট্ট মনে ছিল নানা স্বপ্ন। কিন্তু মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনা সেই স্বপ্নকে থামিয়ে দিল চিরদিনের জন্য।
একপর্যায়ে হঠাৎ মায়ের হাত থেকে ছুটে দৌড়ে সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করে শিশুটি। এ সময় একটি চলন্ত মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে হানিফা গুরুতর আহত হয়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায়।
দুর্ঘটনার পর স্বজনরা দ্রুত তাকে শিয়ালকোলে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির প্রচুর বমি হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে।
জীবন বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মধ্যেও শেষ রক্ষা হয়নি। গতরাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা ছোট্ট হানিফাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যু যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। যে ছোট্ট মেয়েটি মায়ের হাত ধরে প্রতিদিন স্কুলে যেত সেই মায়ের হাতই আজ শূন্য। যে স্কুলব্যাগ নিয়ে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার স্বপ্নে ছুটে যেত বিদ্যালয়ে সেই শিশুটিই আর কোনোদিন শ্রেণিকক্ষে ফিরবে না। আর কোনোদিন শিক্ষককে সালাম দিয়ে হাসিমুখে বসবে না সহপাঠীদের সঙ্গে খেলবে না এই নির্মম বাস্তবতা পরিবার ও স্বজনদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।
হানিফার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আয়শা রশিদ বিদ্যা নিকেতন পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। সহপাঠীদের কাছে চিরচেনা সেই ছোট্ট মুখটি এখন শুধুই স্মৃতি। আলোকদিয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকাতেও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা ছোট্ট হানিফার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুদের নিয়ে সড়কে চলাচল ও রাস্তা পারাপারের সময় অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়, আর কোনো পরিবারের হাসি মুহূর্তেই কান্নায় পরিণত না হয়।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিরাজগঞ্জে মায়ের হাত ছুটে সড়ক পার হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল আয়শা রশিদ বিদ্যা নিকেতনের প্লে-গ্রুপের ছোট্ট শিক্ষার্থী হানিফা খাতুন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একটি পরিবারের হাসি-আনন্দ যেন পরিণত হয়েছে কান্না আর শোকের মাতমে। হানিফার মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন,সহপাঠী,শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহত হানিফা খাতুন আলোকদিয়া গ্রামের মো:হানিফের মেয়ে। প্রতিদিনের মতো গত পরশুদিন সকাল ৮টার দিকে মায়ের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ির সামনে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ছোট্ট হানিফা। স্কুলে যাওয়ার আনন্দে হয়তো তার ছোট্ট মনে ছিল নানা স্বপ্ন। কিন্তু মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনা সেই স্বপ্নকে থামিয়ে দিল চিরদিনের জন্য।
একপর্যায়ে হঠাৎ মায়ের হাত থেকে ছুটে দৌড়ে সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করে শিশুটি। এ সময় একটি চলন্ত মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে হানিফা গুরুতর আহত হয়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায়।
দুর্ঘটনার পর স্বজনরা দ্রুত তাকে শিয়ালকোলে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির প্রচুর বমি হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে।
জীবন বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মধ্যেও শেষ রক্ষা হয়নি। গতরাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা ছোট্ট হানিফাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যু যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। যে ছোট্ট মেয়েটি মায়ের হাত ধরে প্রতিদিন স্কুলে যেত সেই মায়ের হাতই আজ শূন্য। যে স্কুলব্যাগ নিয়ে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার স্বপ্নে ছুটে যেত বিদ্যালয়ে সেই শিশুটিই আর কোনোদিন শ্রেণিকক্ষে ফিরবে না। আর কোনোদিন শিক্ষককে সালাম দিয়ে হাসিমুখে বসবে না সহপাঠীদের সঙ্গে খেলবে না এই নির্মম বাস্তবতা পরিবার ও স্বজনদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।
হানিফার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আয়শা রশিদ বিদ্যা নিকেতন পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। সহপাঠীদের কাছে চিরচেনা সেই ছোট্ট মুখটি এখন শুধুই স্মৃতি। আলোকদিয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকাতেও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা ছোট্ট হানিফার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুদের নিয়ে সড়কে চলাচল ও রাস্তা পারাপারের সময় অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়, আর কোনো পরিবারের হাসি মুহূর্তেই কান্নায় পরিণত না হয়।

আপনার মতামত লিখুন