ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
খোলা বার্তা

নিমগাছী মৎস প্রকল্পের খুঁটি-তার বাসায় নেওয়ার অভিযোগ, জব্দ করলেন চেয়ারম্যান



নিমগাছী মৎস প্রকল্পের খুঁটি-তার বাসায় নেওয়ার অভিযোগ, জব্দ করলেন চেয়ারম্যান

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের কার্যালয় থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি সিমেন্টের খুঁটি ও কাটা তার ট্রাকে করে ব্যক্তিগত বাসায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরকারের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার সকালে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয় থেকে একটি ট্রাকে করে এসব নির্মাণসামগ্রী নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের মাস্টাররোলে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারীকে দিয়ে খুঁটি ও কাটা তার ট্রাকে তোলা হয়। পরে ট্রাকটি মাসুদ সরকারের নিজ বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়।

স্থানীয়দের কয়েকজন বিষয়টি জানতে পেরে ট্রাকটি থামিয়ে এসব পণ্য সরকারি নাকি ব্যক্তিগত—জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘মাসুদ স্যার’ এসব সামগ্রী তাঁর বাসায় নিয়ে যেতে বলেছেন। তবে সরকারি ছুটির দিনে প্রকল্প কার্যালয় থেকে এসব সামগ্রী বাইরে নেওয়ার বিষয়ে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাকচালক আব্দুর রহমান খন্দকার বলেন, ‘খুঁটি ও তার কার, তা আমি জানি না। তবে মাসুদ স্যার আমাকে খুঁটি ও তারগুলো তাঁর বাসায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী আমি মালগুলো নিয়ে যাচ্ছিলাম। তবে এসব পণ্য পরিবহনের কোনো কাগজপত্র আমাকে দেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ সরকার নিজে উপস্থিত থেকে খুঁটি ও তারগুলো গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন।’

নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয়ের পাম্প অপারেটর মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অফিসের পুকুরে ওয়াল নির্মাণের জন্য খুঁটিগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেখানে গাইড ওয়াল নির্মাণ করায় খুঁটিগুলো অফিসেই ছিল।’

অভিযোগের বিষয়ে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরকার বলেন, ‘আমি নিজের টাকায় খুঁটি ও কাটা তার তৈরি করেছি।’ তবে নিজের অর্থে এসব সামগ্রী তৈরি করার দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জুব্বার জানান, ‘মৌখিক ও সরেজমিনে অভিযোগ পাওয়ার পর নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প অফিস থেকে বের হওয়া খুঁটি ও তারগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। তবে এরই মধ্যে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।’

নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার তেমন জানা নেই। আমি মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

রাজশাহী অঞ্চলের মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, ‘আপনাদের সহকর্মীর মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পারলাম। তবে মাসুদ সাহেব ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন’

তবে প্রকল্পের এসব খুঁটি ও তার সরকারি সম্পদ নাকি ব্যক্তিগত অর্থে তৈরি—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


নিমগাছী মৎস প্রকল্পের খুঁটি-তার বাসায় নেওয়ার অভিযোগ, জব্দ করলেন চেয়ারম্যান

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের কার্যালয় থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি সিমেন্টের খুঁটি ও কাটা তার ট্রাকে করে ব্যক্তিগত বাসায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরকারের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার সকালে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয় থেকে একটি ট্রাকে করে এসব নির্মাণসামগ্রী নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের মাস্টাররোলে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারীকে দিয়ে খুঁটি ও কাটা তার ট্রাকে তোলা হয়। পরে ট্রাকটি মাসুদ সরকারের নিজ বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়।

স্থানীয়দের কয়েকজন বিষয়টি জানতে পেরে ট্রাকটি থামিয়ে এসব পণ্য সরকারি নাকি ব্যক্তিগত—জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘মাসুদ স্যার’ এসব সামগ্রী তাঁর বাসায় নিয়ে যেতে বলেছেন। তবে সরকারি ছুটির দিনে প্রকল্প কার্যালয় থেকে এসব সামগ্রী বাইরে নেওয়ার বিষয়ে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাকচালক আব্দুর রহমান খন্দকার বলেন, ‘খুঁটি ও তার কার, তা আমি জানি না। তবে মাসুদ স্যার আমাকে খুঁটি ও তারগুলো তাঁর বাসায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী আমি মালগুলো নিয়ে যাচ্ছিলাম। তবে এসব পণ্য পরিবহনের কোনো কাগজপত্র আমাকে দেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ সরকার নিজে উপস্থিত থেকে খুঁটি ও তারগুলো গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন।’

নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয়ের পাম্প অপারেটর মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অফিসের পুকুরে ওয়াল নির্মাণের জন্য খুঁটিগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেখানে গাইড ওয়াল নির্মাণ করায় খুঁটিগুলো অফিসেই ছিল।’

অভিযোগের বিষয়ে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরকার বলেন, ‘আমি নিজের টাকায় খুঁটি ও কাটা তার তৈরি করেছি।’ তবে নিজের অর্থে এসব সামগ্রী তৈরি করার দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জুব্বার জানান, ‘মৌখিক ও সরেজমিনে অভিযোগ পাওয়ার পর নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প অফিস থেকে বের হওয়া খুঁটি ও তারগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। তবে এরই মধ্যে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।’

নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার তেমন জানা নেই। আমি মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

রাজশাহী অঞ্চলের মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, ‘আপনাদের সহকর্মীর মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পারলাম। তবে মাসুদ সাহেব ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন’

তবে প্রকল্পের এসব খুঁটি ও তার সরকারি সম্পদ নাকি ব্যক্তিগত অর্থে তৈরি—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. ছাইদুল ইসলাম (আবির)
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক : মো. একরামুল হক।
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত