ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
খোলা বার্তা

ধুনটে খাসজমি ও সরকারি খাল দখলের অভিযোগ, ঝুঁকিতে ৩০০ একর ফসলি জমি



ধুনটে খাসজমি ও সরকারি খাল দখলের অভিযোগ, ঝুঁকিতে ৩০০ একর ফসলি জমি
ধুনটে খাসজমি ও সরকারি খাল দখলের অভিযোগ, ঝুঁকিতে ৩০০ একর ফসলি জমি

বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামে সরকারি খাসজমি ও রাস্তার জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের একমাত্র নালা মাটি দিয়ে ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে প্রায় দুই হাজার মানুষের চলাচল এবং ৩০০ একর আবাদি জমির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গ্রামবাসী। অভিযোগপত্রে প্রায় ৫০ জনের গণস্বাক্ষর রয়েছে। এতে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল কাদের ও ইউপি সদস্য মো. আব্দুল ওয়াহাবও স্বাক্ষর করেছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রামপুরা গ্রামে সরকারি খাসজমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে প্রায় দুই হাজার মানুষের কৃষিজমিতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের একমাত্র নালা মাটি দিয়ে ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নালাটি বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় ৩০০ একর আবাদি জমির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হতে পারে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।


অন্যদিকে, রামপুরা বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, কোনো কোনো দোকানের ভেতরে প্রায় তিন থেকে সাড়ে সাত শতাংশ পর্যন্ত সরকারি রাস্তার জমি দখল করে রাখা হয়েছে। এতে বাজারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।


অভিযোগের বিষয়ে মো. জহুরুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ছেলে অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।


এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


গ্রামবাসীর দাবি, দ্রুত সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাসজমি ও রাস্তার সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের নালা দখলমুক্ত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


ধুনটে খাসজমি ও সরকারি খাল দখলের অভিযোগ, ঝুঁকিতে ৩০০ একর ফসলি জমি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামে সরকারি খাসজমি ও রাস্তার জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের একমাত্র নালা মাটি দিয়ে ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে প্রায় দুই হাজার মানুষের চলাচল এবং ৩০০ একর আবাদি জমির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গ্রামবাসী। অভিযোগপত্রে প্রায় ৫০ জনের গণস্বাক্ষর রয়েছে। এতে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল কাদের ও ইউপি সদস্য মো. আব্দুল ওয়াহাবও স্বাক্ষর করেছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রামপুরা গ্রামে সরকারি খাসজমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে প্রায় দুই হাজার মানুষের কৃষিজমিতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের একমাত্র নালা মাটি দিয়ে ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নালাটি বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় ৩০০ একর আবাদি জমির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হতে পারে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।


অন্যদিকে, রামপুরা বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, কোনো কোনো দোকানের ভেতরে প্রায় তিন থেকে সাড়ে সাত শতাংশ পর্যন্ত সরকারি রাস্তার জমি দখল করে রাখা হয়েছে। এতে বাজারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।


অভিযোগের বিষয়ে মো. জহুরুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ছেলে অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।


এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


গ্রামবাসীর দাবি, দ্রুত সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাসজমি ও রাস্তার সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের নালা দখলমুক্ত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।


খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. ছাইদুল ইসলাম (আবির)
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক : মো. একরামুল হক।
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত