ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
খোলা বার্তা

‎বনদস্যু আতঙ্কে লোকালয়ে ফিরছে জেলেরা, উপার্জন বন্ধে পরিবার দিশাহারা


প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

‎বনদস্যু আতঙ্কে লোকালয়ে ফিরছে জেলেরা, উপার্জন বন্ধে পরিবার দিশাহারা
ছবি সংগৃহীত

সুন্দরবনে বনদস্যু কর্তৃক একের পর এক অপহরণ আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়ে লোকালয়ে ফিরছে জেলেরা। এতে উপার্জন বন্ধ হয়ে হাজারো জেলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং চরম আতংকিত হয়ে পড়েছে।

দ্রুত বনদস্যু মুক্ত না হলে বন বিভাগ হারাবে রাজস্ব ও বেকার হয়ে পড়বে উপকূলীয় সাগর ও বনজীবি সম্প্রদায়।
‎
‎দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণ আতঙ্কে দুবলার চরের হাজারো জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছেন এবং মৌসুমের শেষে এসে তারা কী নিয়ে বাড়ি যাবেন সে চিন্তায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
‎
‎তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের বেধড়ক মারধর করছে দস্যুরা।
‎
‎আলোরকোলে অবস্থানরত রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ। এখন এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাগরে গেলে ডাকাত। দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের কব্জায় এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছে। সর্বশেষ সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের সন্ধান মেলেনি তিন দিনেও।
‎
‎সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে তাদের স্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস (অনুমতি) নিচ্ছেন না। যার ফলে মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
‎
‎সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বন দস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
‎
‎
‎

আপনার মতামত লিখুন

খোলা বার্তা

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


‎বনদস্যু আতঙ্কে লোকালয়ে ফিরছে জেলেরা, উপার্জন বন্ধে পরিবার দিশাহারা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সুন্দরবনে বনদস্যু কর্তৃক একের পর এক অপহরণ আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়ে লোকালয়ে ফিরছে জেলেরা। এতে উপার্জন বন্ধ হয়ে হাজারো জেলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং চরম আতংকিত হয়ে পড়েছে।

দ্রুত বনদস্যু মুক্ত না হলে বন বিভাগ হারাবে রাজস্ব ও বেকার হয়ে পড়বে উপকূলীয় সাগর ও বনজীবি সম্প্রদায়।
‎
‎দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণ আতঙ্কে দুবলার চরের হাজারো জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছেন এবং মৌসুমের শেষে এসে তারা কী নিয়ে বাড়ি যাবেন সে চিন্তায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
‎
‎তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের বেধড়ক মারধর করছে দস্যুরা।
‎
‎আলোরকোলে অবস্থানরত রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ। এখন এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাগরে গেলে ডাকাত। দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের কব্জায় এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছে। সর্বশেষ সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের সন্ধান মেলেনি তিন দিনেও।
‎
‎সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে তাদের স্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস (অনুমতি) নিচ্ছেন না। যার ফলে মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
‎
‎সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বন দস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
‎
‎
‎


খোলা বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. ছাইদুল ইসলাম (আবির)
✆ ০১৭৫০-৭০৭৬৩৬
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক : মো. একরামুল হক।
✆ ০১৯২৮-৩১৩১২০
ই মেইল: kholabartaonline@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ খোলা বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত