সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার করতোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একই বিষয়ের বিপরীতে দুই শিক্ষিকার বেতন-ভাতা উত্তোলন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকা সরকারি অর্থের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার পারভেজ। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ৯ আগস্ট রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন আনোয়ার পারভেজ। অভিযোগে সরকারি অর্থের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, আমিনা খাতুন ২০১৩ সালে করতোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (বাংলা) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০২৫ সালের মার্চে তিনি সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) হিসেবে বেতনভুক্ত হন।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. আঙ্গুরী পারভীন ২০০৪ সালে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। বিদ্যালয়টি ২০১৯ সালে এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত একই বিষয়ের বিপরীতে আঙ্গুরী পারভীন বেতন-ভাতা উত্তোলন করে থাকলে ওই সময়ের বকেয়া বেতন-ভাতা আমিনা খাতুনের নামে কীভাবে উত্তোলন করা হলো, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এভাবে প্রায় ৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারের ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আমিনা খাতুনের বকেয়া বেতন উত্তোলনে সহযোগিতা এবং উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ ভাগাভাগিরও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
অভিযোগকারী সরকারি অর্থের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ, নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ উত্তোলন হয়ে থাকলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা আমিনা খাতুন বলেন, “আমি কোনো সাবজেক্ট পরিবর্তন করিনি। এ বিষয়ে আপনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগের বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিধিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষকের বেতন-ভাতা জমা হয়। নিয়ম অনুযায়ীই বেতন উত্তোলন করা হয়েছে।”
রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা ও সরকারি অর্থের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সময়ের এমপিও শিট, বেতন বিল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বকেয়া বেতন অনুমোদনের নথি এবং সরকারি অর্থ উত্তোলনের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার করতোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একই বিষয়ের বিপরীতে দুই শিক্ষিকার বেতন-ভাতা উত্তোলন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকা সরকারি অর্থের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার পারভেজ। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ৯ আগস্ট রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন আনোয়ার পারভেজ। অভিযোগে সরকারি অর্থের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, আমিনা খাতুন ২০১৩ সালে করতোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (বাংলা) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০২৫ সালের মার্চে তিনি সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) হিসেবে বেতনভুক্ত হন।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. আঙ্গুরী পারভীন ২০০৪ সালে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। বিদ্যালয়টি ২০১৯ সালে এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত একই বিষয়ের বিপরীতে আঙ্গুরী পারভীন বেতন-ভাতা উত্তোলন করে থাকলে ওই সময়ের বকেয়া বেতন-ভাতা আমিনা খাতুনের নামে কীভাবে উত্তোলন করা হলো, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এভাবে প্রায় ৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারের ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আমিনা খাতুনের বকেয়া বেতন উত্তোলনে সহযোগিতা এবং উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ ভাগাভাগিরও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
অভিযোগকারী সরকারি অর্থের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ, নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ উত্তোলন হয়ে থাকলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা আমিনা খাতুন বলেন, “আমি কোনো সাবজেক্ট পরিবর্তন করিনি। এ বিষয়ে আপনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগের বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিধিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষকের বেতন-ভাতা জমা হয়। নিয়ম অনুযায়ীই বেতন উত্তোলন করা হয়েছে।”
রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা ও সরকারি অর্থের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সময়ের এমপিও শিট, বেতন বিল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বকেয়া বেতন অনুমোদনের নথি এবং সরকারি অর্থ উত্তোলনের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন